ঝরা সময় # ফিলিং ৩

ঝরা সময় # ফিলিং ৩

“প্রেম কি মুড়ি মুড়কি নাকি? বারবার তোমার জীবনে প্রেম আসে?” আমার সোজা প্রশ্ন অর্জুনদার কাছে। আমার কথা শুনেই হাসতে শুরু করল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম তোমার ঐ বন্ধুর বোনের কেসটা কি হল বললে না তো সেদিন। একটু অনুরোধ করতেই কেমন যেন নরম হয়ে গেল অর্জুনদা। বললো চল আগে একটা বিড়ি ধরাই তারপর ওটা নয় আরেকটা বলবো। আমি তো অবাক, ও তো বিড়ি খায়না, খায়তো সিগারেট। জিজ্ঞাসা করলাম, সেকি তুমি আজ বিড়ি খাবে কি ব্যাপার? ওর সোজা উত্তর ‘যে সময়ের কথা বলবো, ঐ সময় বেকার ছিলাম, তাই বিড়িই খেতাম। তাই ঐ মুডটা ধরার জন্য এই বিড়ি’। এরপর আগামী দুই ঘণ্টা অর্জুনদার থেকে শুনেছিলাম আরেক গল্প তার জীবনের। সেদিন আর ঐ বন্ধুর বোনের গপ্পোটা আমার শোনা হলো না। তার বদলে অন্য একটা গল্প শুরুকরলো সে …

যেহেতু, অন্যের ব্যাক্তিগত কথা পাবলিক করছি, তাই আগাম ক্ষমা চেয়ে নিলাম অর্জুনদার থেকে। আর আপনাদের বলি একটু কষ্ট করে পড়ে নেবেন, কারণ লেখালেখিটা আমার ঠিক আসেনা।

“তখন, আমি কলেজে। যতদূর, মনে পড়ে সেকেন্ড ইয়ার হবে। উত্তর কলকাতার রাজবল্লভ পাড়ার মুখে দাড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছি, দেড়টা বা দুটো হবে, রাস্তাঘাট মোটামুটি ফাঁকা। মোদ্দা কথা দুপুরের ভাত খাওয়া হয়নি তখনও আমার। যে সময়ের কথা বলছি সেই সময় বাঙালি লাঞ্চ করতো না, দুপুরের খাওয়া খেত। এক সুন্দরী এসে দাঁড়াল বাস স্ট্যান্ডে। কাঁধে তার ব্যাগ আর হাতে মোটামোটা দু চারটে বই। মুখটা ভারি স্নিগ্ধ ও শান্ত। আগেও দেখেছি একে এখান থেকে মাঝেমাঝে বাস এর জন্য দাঁড়াতে। একদম ভাবার কিচ্ছু নেই যে ওখানে আড্ডা দিতাম আর মেয়েদের উত্যক্ত করতাম। সেই সময় বদলে দেওয়ার স্বপ্ন চোখে, কোন এক ‘ম্যানিফেস্টো’ ও পড়ে ফেলেছি। আশেপাশে অনেকেই চেনে, তাই ওখানে দাঁড়িয়ে বিড়ি আর সমাজ বদলের স্বপ্ন ছাড়া আর সব কিছুই ছিল নিষিদ্ধ ইস্তেহারের মতন। এখনও মনে আছে, পিঙ্কি চলে গেল আগেই, আমি, দীপ আর নির্মলদা দাঁড়িয়ে ছিলাম। দীপ আর নির্মলদাও বেড়িয়ে গেল, বলে গেল চারটে নাগাদ দেখা হবে আবার। সেই সময় রাজবল্লভ পাড়ার মোড়ের ডানদিকের ফুটপাথটার একটা অংশে রেলিং দেওয়া ছিল। আরেকটা বিড়ি ধরিয়ে গিয়ে বসলাম রেলিং এর ওপর। যতই রাজনীতি করি, সবশেষে আমি মানুষতো। তাই মাঝে মাঝেই চোখ চলে যাচ্ছিল মেয়েটার দিকে। মেয়েটির কোন ভ্রুক্ষেপও নেই কোনদিকে, সে তার আপন খেয়ালে বইয়ের পাতা উল্টে কি যেন দেখছে। একটু হলেও খারাপ লাগছিল মেয়েটা একবারের জন্যও আমার দিকে তাকিয়েও দেখছেনা বলে। ঠিক সেই মুহূর্তে, নবীন চন্দ্রের মিষ্টির দোকানের সামনে থেকে একটা বাস ঝড়ের বেগে এসে মোড় নিলো, কিন্তু ব্রেক মারতে মারতে একটু দেরি করে ফেলেছিল বাসটা। ধুপ করে একটা শব্দ হল। আর তার সাথে ‘আ..আ…’ এক আর্তনাদ। ছুটে গেলাম সামনে, তীব্র গতিতে বেড়িয়ে গেলো বাসটা চোখের সামনে দিয়ে। খানিক দুরে ছিটকে গিয়ে পড়েছে মেয়েটা আর এদিকে ওদিকে ছিটকে পড়ে আছে ব্যাগ আর বইগুলো। সামনে যেতেই দেখলাম কাঁচা রক্ত বেড়িয়ে আসছে মেয়েটির কোমরের নিচ থেকে। সামনে এতো কাঁচা রক্ত দেখে ঘাবড়ে গেছিলাম। বেশ হাল্লাচেলা শুরু করলাম, অনেকে এগিয়ে এলো কিন্তু মেয়েটাকে কেউ হসপিটালে নিয়ে যেতে চাইলো না। শুধু কি তাই? হাত দিতেও চাইলো না। বর্তমানে যে আইন হয়েছে, তা তখন ছিলনা। পুলিশের ভয়ে কেউ এগিয়ে এলোনা। কে পরতে চায় ঝামেলায়? আমি এগিয়ে গেছিলাম কারণ আমি তখন সর্বস্ব হারিয়ে যারা পথে তাদের প্রতিনিধিত্ব করার অঙ্গীকার নিয়েছি যে । সর্বস্ব হারিয়ে যারা পথে এসে দাড়ায় তাদের যেন এক কথায় কি যেন একটা বলা হতো সেই সময়। অনেক আগের কথাতো তাই এখন আর মনেও পড়েনা। তখন পরিস্তিতি এমন, কাউকে যে ডাকব তারও উপায় নেই আমার। আশেপাশে কোন এসটিডি বুথও নেই, আর মোবাইল ফোন আসতে তখনও আরও বেশ কিছু বছর বাকি। যাই করি আমাকে হেঁটে যেতে হবে খানিকটা আর হাতে সময়ও কম।

Jhora Somoy # Feeling 3B

আস্তেআস্তে দেখতে পাচ্ছিলাম মেয়েটার শান্ত মুখখানা আরও শান্ত হয়ে যাচ্ছে। একটা ট্যাক্সি দাঁড় করালাম। পকেটে তখন খুচরো আর নোট মিলিয়ে বড়জোর খান দশেক টাকা। ওর বই আর ব্যাগ ট্যাক্সিতে রেখে, দুহাতে তুলে নিলাম ওকে রাস্তা থেকে। আমার হাতে তখন ওর প্রায় নিথর শরীর, বেশ ভারী লাগছিল। হঠাৎ কানে এলো একটা কথা ‘অর্জুন তাড়াতাড়ি করো’। মেয়েটির যোনি থেকে বেড়িয়ে আসা রক্তে তখন ভিজে যাচ্ছে আমার দু-হাত। ঐ মুহূর্তে একটা নতুন অনুভূতি হয়েছিল, কি সেই অনুভূতি তা বলে বোঝান বড্ড কঠিন। আমাকে চিনল কি ভাবে? ও কি আমাকে চেনে? আর তার সাথে ভয়, কাঁচা রক্ত, মেয়েটার কাছে স্বপ্নের পুরুষ হয়ে ওঠা থেকে শুরু করে নির্মম মুহূর্তেও যৌনতা মেশানো শরীরের স্বাদ, নারী শরীরের নিজস্ব এক গন্ধ আছে, সব মিলিয়ে মিশিয়ে এক বিচিত্র অনুভূতি। ছুটলাম নিয়ে আর জি কর হসপিটালের দিকে। যারা এই রাস্তায় এসেছেন তারা জানে, খুব বেশি রাস্তা নয়। এই প্রথম কোন মেয়ের সাথে একা হলাম ট্যাক্সির ঐ সীমিত পরিসরে। হসপিটালের যতই কাছে এগোচ্ছে গাড়ি, তত এক অজানা ভয় ঘিরে ধরতে লাগলো আমাকে। অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হল হসপিটালে ভরতি করার জন্য। শ্যামপুকুর থানার কেস, থানার ছোটবাবু আমাকে দেখেই চিনতে পারলো। রাজনীতি করার এটাই হয়তো সুবিধা। এরপরে আমাকে জেরা করা বন্ধ হল। হসপিটালে ভর্তি করে ফিরে এলাম বাড়ি। মেয়েটার বাবা মাকে পুলিশই খবর দিয়েছিল। ওরা আমার সাথে দেখা করতেও চেয়েছিল কিন্তু দেখা হয়নি। আমি দেখতেও গেছিলাম মেয়েটাকে নিয়ম করে আর খবরও নিতাম। এই ঘটনার দুদিন পরে, বিকেল বেলায় পার্টি অফিস থেকে বেড়িয়ে সোজা গেলাম আর-জি-করে। কে জানে কেমন আছে মেয়েটা ….

গিয়ে শুনলাম সেদিনই দুপুর একটা নাগাদ স্নিগ্ধা মারা গেছে। পোস্টমরটেমের পরে বডি নিয়ে চলে গেছে পরিবার। এই প্রথম কোন শরীরকে ‘বডি” হতে দেখলাম। হ্যাঁ, ওর নাম ছিল স্নিগ্ধা মুখার্জি, সেকেন্ড ইয়ার ফিজিক্‌স অনার্স, জয়পুরিয়া কলেজ।

শুধু জানা হলনা এর অর্থ ‘অর্জুন তাড়াতাড়ি করো’।

 

 

চিত্রঅঙ্কন – মিতাদ্রু বিশ্বাস
স্বত্ব © বংব্লগার আপনার যদি মনে হয় বা ইচ্ছা হয় তাহলে আপনি এই লেখাটি শেয়ার করতে পারেন কিন্তু দয়াকরে এর লেখকের নাম ইন্দ্রজিৎ দাস উল্লেখ করতে ভুলবেন না। ভুলে যাবেননা চৌর্যবৃত্তি মহাদায়, যদি পড়েন ধরা।

যদি আপনি আপনার নিজের ছবি এখানে দেখতে পান এবং তাতে যদি আপনার কোন রকম আপত্তি থাকে তাহলে অবশ্যই ই-মেল করে আপনি উপযুক্ত প্রমাণসহ আপনার দাবি জানাতে পারেন।দাবিটি ন্যায্য প্রমাণিত হলে, সে ক্ষেত্রে ছবিটি সরিয়ে ফেলা হবে।

ঝরা সময় # ফিলিং ২

ঝরা সময় # ফিলিং ২

উত্তর কলকাতার অন্ধকার গলিতে মিলিয়ে যাওয়া অর্জুনদা আবার কোথা থেকে যেন উদয় হল। পার্কে দৌড়চ্ছিলাম হঠাৎ পেছন থেকে ডাক পড়লো ‘অ্যাই বাবলা’। দাঁড়িয়ে পরলাম কোন উপায় নেই যে। না দাঁড়ালে, যা নয় তা শুরু করে দেবে সবার সামনে। সামনে এসেই আমায় বলল ‘অনেক হয়েছে এবার চল, একটা কথা আছে’। বলেই চায়ের দোকানে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গেল। আমার মুখ নাকি খাঁটা, ওই আরকি। দিলাম ধরে ব, খ, চ। চুপচাপ শুনে বলল ‘হয়েছে? না আরও দিবি?’। বললাম কি হয়েছে বলো? বলতে শুরু করল অর্জুনদা, ‘তোকে শালা মন খুলে একটু কথা বললাম বোকাচো…… ফেসবুকে ছেপে দিলি মালটা? ঠিক করলি?’ আমি আমার স্বাভাবিক ভঙ্গীতে  বললাম দুর ছাড়তো। ফালতু না ভাঁজিয়ে কি বলবে বলো? আমার সোজা হিসেব, বিশ্বাস না করলে তোমার গোপন চুলকানি নিয়ে কিছু বোলনা প্লিজ। লিখেছি সত্যি তোমার কথা কিন্তু তোমার আসল নামটা তো ব্যাবহার করিনি। তাহলে তোমার চাপ কোথায়? এবার ব্যাটা নিজেই বলল ‘ঠিক আছে ছাড় ও কথা, জানিস আজ কাকে দেখলাম?’। মহামুশকিল !!! আমি জানবো কি করে?  এবার সে বলা শুরু করলো। যেহেতু, লেখালেখির হাতযশটা আমার নিতান্তই বাজে, তাই আমি আমার মতো করে আপনাদের শোনাবো ওর গপ্পো।

 

সেই বছর মানে আশির দশকের মাঝামাঝি কোন এক সময় পরিবারের সাথে আমি এলহাবাদ গেছিলাম ঘুড়তে। ওই সময় যেমন হত, আরও এক দুটো পরিবার জুটে যেতো আর সবাই মিলে বাক্স প্যাঁটরা নিয়ে বেড়িয়ে পরতো। এত ট্রাভেল এজেন্সির রমরমা ছিল না। ঐ সময় কুণ্ডু ট্রাভেল্‌স ছিল কিন্তু সেখানে একটু উঁচু ক্লাসের লোকজন যেতো হয়তো। মোদ্দা কথা আমারা যাইনি। সময়টা শীতকাল ছিল কারণ আমরা হোল্ডঅল বেডিং নিয়ে হাওড়া থেকে ট্রেনে উঠেছিলাম। রাতে শোবার সময় ওটা থেকেই কম্বল বের করে দেয়া হয়েছিল। যতদূর মনে পরে আশেপাশের তিন চারটে কূপে আমাদেরই লোকজনেরা ছিল। তাই এক কূপ থেকে আরেক কূপে বারবার যাতায়াত করছিলাম। আসলে কূপের দরজা ঠেলা দিয়ে খোলার একটা মজা ছিল, আর একটা ক্যেতও ছিল বটে। নিজেকে বেশ বড় বড় লাগছিল বোধহয়, তাই এতো ঘনঘন অন্ধকূপ যাত্রা করছিলাম। একবার, এই রকম কূপ নিয়ে কপাকুপির খেলার মাঝে অন্যও কোন এক কূপের এক কাঁটা সুন্দরীর দেখা পেলাম ট্রেনের কামরার ঐ সরু গলিতে। ব্যাস, আমার আকাশ বাতাসে কেমন যেন একটা প্রেম প্রেম আবহ তৈরি হয়ে গেল। ‘পাগলা খাবি কি, ঝাঁজেই মরে যাবি’ এ কথা বাজারে তখনও আসেনি। আর যদি এসেও থাকে অন্তত আমার জানা ছিলনা। সত্যি বলতে আমার একদম সেই অবস্থা হল। মেয়েটি সাদা রঙের সালওয়ার কামিজ পরা তার ওপর দুধে আলতা গায়ের রঙ। আমার অবস্থা অনেকটা ‘ইন দ্য ভোগ অফ মা’। এ প্রবাদের জন্মের অনেক আগের কথা বলছি অবশ্য। কূপে ফিরে এসে মাথা ঘুরতে লাগলো। এতো সুন্দর কি কেউ হতে পারে? ভেবে। বারবার মনে হতে লাগলো ও কি আমাকে দেখছিল? কি না? স্বাভাবিক ভাবে মন যা বলার তাই বলছিল, হ্যাঁ আমাকে দেখছিল, আলবাৎ দেখছিল। আমিও তো কম যাইনা তখন, হলুদ রঙের টি-শার্ট আর জিনসের প্যান্ট পরা রীতিমত হ্যান্ডু। অবশ্য সেটা আমি নিজে নিজে ভাবতাম। আটটা না বাজতেই সবার কেমন যেন ঘুমের নেশা পেলো। ভারি বেগতিক, সবাই ঘুমিয়ে পরলে আমি তো আর কূপের বাইরে যেতে পারবনা। তাহলে ওকে আবার কি ভাবে দেখবো? কি করলে আবার তাকে দেখা যাবে ভাবতে লাগলাম। মাকে বললাম, মা, লাস্ট একবার জয়ন্তদা দের কূপ থেকে ঘুরে আসি? মা অনুমতি দিলেও ব্যাগরা দিলো দাদা। এই প্রথম আমার নিষ্পাপ মনে কাউকে খুন করার ইচ্ছে জন্মাল। তখন বাজার চলতি সব গালাগালি আমার কণ্ঠস্থ। ওখান থেকে দু চারটে মনেমনে দিতেদিতে জোরজার করে বেড়িয়ে পড়লাম। হতাশ হয়ে ফিরে আসতে হল। কেউ নেই ঐ ট্রেনের গলিতে। ভেতরে আসতেই, দাদা গলাধাক্কা দিয়ে শুয়ে দিলো আমাকে।

 

সত্যি বলতে ঘুম আসতে চাইছিলনা। বারবার মুখটা ঘুরে ফিরে আসছে। তখন আমার পূর্ণযৌবন। যা যা মাথায় এসেছিল সেদিন তা যদি আমি এখানে নিয়ে আসি অর্থাৎ অনেকটা ধরুন যদি ক্যমুর মতো লিখতে চাই। ছাড়ুন, বাদদিন অতদুর গিয়ে লাভ নেই। ভাবুন যদি রঙ্গন চাটুজ্যের ভাসায় লিখি। তাহলে ব্যাপারটা পূর্নাঙ্গ মাত্রায় ইয়ে হয়ে যাবে। কি যেন একটা বলে না? আনু টানু জাতীয়। মনে পড়ছেনা। যাইহোক, আমি একটা খেলা খেলতাম সেই সময়, অবশ্য এখনও খেলি। যার সাথে কথা বলার ইছা হত বা কোন কথা কাউকে বলতে চাই, হয়তো সামনে তাকে কোনদিনই সে কথা বলা হয়ে উঠবেনা, তাকে প্রথমে কল্পনায় নিয়ে আসা, তারপর বিভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি করা মনেমনে, আর তারপর তারসঙ্গে বা আরও অনেক চরিত্র এক জায়গায় নিয়ে এসে জমিয়ে কথা বলা। এই ভাবে চলতো সে খেলা। সেদিন সারারাত ওর সাথে আমার গল্প চললো এভাবেই। একটা আশঙ্কা কাজ করছিল মনে, যদি রাতে সে ট্রেন থেকে নেমে যায়। তাহলে কি হবে? একটু দুঃখ নিয়ে বিলাসও করলাম। খেলার ফলে, ঐ বিশাল লম্বা রাত বেশ খানিকটা ছোট হয়ে গেল।

 

ভোর হল। খানিক বাদে, তোরজোড় শুরু হল। কিসের বুঝতে পারছিলামনা। অবশেষে, মা এসে বলল দাঁত মেজে জুতো পরে নিতে। কারণ, খানিক বাদে এলাহাবাদ এসে পরবে। রেডি হয়ে গেলাম, বেড়িয়ে পড়লাম কূপ থেকে। আমার চোখ তখন খুঁজে বেড়াচ্ছে। অবশেষে, অল্প খোলা দরজা থেকে বেড়িয়ে আসা এক টুকরো সাদা কাপড় জানিয়ে দিলো, সে আছে। এলাহাবাদ ষ্টেশনে নামা হল, পাশে দাঁড়িয়ে সে। এইবার লক্ষ্য করলাম সেও আমাকে সত্যি সত্যি দেখছে। মনে হচ্ছিল, ছোট্ট চিরকুটে বাড়ির ল্যান্ড লাইন ফোন নাম্বারটা দিয়ে দিই। সাহস হলনা। আরেকটা ব্যাপার কাজ করছিলো, হারিয়ে ফেলার অনুভূতি। একটা জেদ চেপে বসলো ‘কিছুতেই হারাতে দেবনা’। একবার চিল্লিয়ে দাদাকে বললাম দাদা আমাদের নাম্বারটা ‘ফাইভ ফাইভ ফাইভ টু নাইন এইট’ তো? মানে শেষে আট আছে তো। দাদা এই শুনে খেঁকিয়ে উঠল। ওর সামনে বকা খেয়ে কি যে লজ্জায় পরেছিলাম। তার ওপর দেখলাম ওর মুখে মৃদু হাসি। লজ্জায়, কোথায় যে লুকবো নিজেকে।

 

তখন আমি নিজেকে অরণ্যদেব আর দাদাকে জঘন্যদেব ভাবছি। তাই অরণ্যদেবের মতো ‘অউ্‌ রেভ্যয়’ বলে বিদায় দিলাম প্রেমকে। এতো কষ্ট হচ্ছিলো এই ভেবে যে ওর নামটাও জানা হলনা। বুকে মোটামুটি দু চার পিস্‌ পাথর চাপা দিয়ে এসে উঠলাম হোটেলে। খানিকবাদে ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নিয়ে, লক্ষ্য করলাম ঘরে একটা বারান্দা আছে। গিয়ে দাঁড়ালাম। মনেহল ডান পাশে গোলাপি ছায়া। তাকিয়ে দেখি অবাক কাণ্ড। এক দৌড়ে ঘরে ঢুকে লাল টী-শার্ট পরে বেড়িয়ে এলাম। আমার হারানো প্রেমের কাম ব্যাক। দু’দিন ছিলাম সেখানে। আর ঐ দু’দিনে ফেলুদা হয়ে যা যা জানতে পারলাম, ওর নাম প্রের্‌ণা আগারওয়াল, ক্লাস ইলেভ্‌নে পড়ে। একটু বড় ছিল আমার থেকে, তাও মনকে বুঝিয়ে নিয়েছিলাম। বেশ কেটেছিল ঐ দু’দিন। যেদিন ওরা হোটেল ছাড়ল। সেদিনটা বেশ মনেপড়ে। আমি বোকার মতো দাঁড়িয়ে সিঁড়ির সামনে। আর ওর বাড়ির সবাই নেমে আসছে একদম পেছনে ও নামছে। লক্ষ্য করলাম, ও চোখের ইশারায় কিছু বলল। কিন্তু আমি বুঝলামনা। আসলে ঐ সময় মেয়েদের চোখের ভাষা বোঝার মতো দক্ষতা তৈরি হয়নি। আজও হয়েছে তেমনটা নিশ্চিত করে বলা মুশকিল। দেখলাম প্রের্‌ণা নিজের রুমালটা ঠোঁটে মুছে রেখে গেলো। অদ্ভুত এক অনুভূতি ঘিরে ধরল আমায়। সারাশরীরে শিহরন হল, মনে হল এক ঝটকায় বড় হয়ে গেলাম। সবাই চলে যাওয়ার পর কুড়িয়ে নিলাম রুমাল। খুলে দেখি লিপস্টিক দিয়ে লেখা সেই মহার্ঘ্য তিন শব্দের বানী আর সাথে ফোন নম্বর।

 

ফিরে এলাম কলকাতা। এসেই লাফিয়ে গেলাম ফোনের কাছে। ঘুরিয়ে ফেললাম সেই নাম্বার। না সে সেখানে থাকেনা। সে ভুলে গেছিলো এসটিডি কোড লিখতে তার নম্বরের সাথে। আর আমারও জানা ছিলনা ওর শহরের নাম। তাই সব পেয়েও হারিয়ে ফেললাম সবকিছু। ধুস !!! যা হবার তা হবেই। তা নিয়ে ভেবে আর আজ লাভ নেই।

ফিরে আসি আজকের কথায়। আজ নাকি, মানে পঁচিশ বছর বাদে অর্জুনদা হাওড়া স্টেশানে একজনকে দেখেছে। সে নাকি সেই হারিয়ে যাওয়া প্রের্‌ণা। ও যাকে দেখেছে, প্রের্‌ণার বয়স হলে ঠিক ঠিক তার মতোই দেখতে হবে। তাই আজ অর্জুনদা বেজায় খুশি। ভাবলাম, মানুষের ভেতরের কারখানাটা বেশ অদ্ভুত। অনুভূতির জন্মের রশদের বীজ কত আদিম হতে পারে।

 

স্বত্ব © বংব্লগার আপনার যদি মনে হয় বা ইচ্ছা হয় তাহলে আপনি এই লেখাটি শেয়ার করতে পারেন কিন্তু দয়াকরে এর লেখকের নাম ইন্দ্রজিৎ দাস উল্লেখ করতে ভুলবেন না। ভুলে যাবেননা চৌর্যবৃত্তি মহাদায়, যদি পড়েন ধরা।

যদি আপনি আপনার নিজের ছবি এখানে দেখতে পান এবং তাতে যদি আপনার কোন রকম আপত্তি থাকে তাহলে অবশ্যই ই-মেল করে আপনি উপযুক্ত প্রমাণসহ আপনার দাবি জানাতে পারেন।দাবিটি ন্যায্য প্রমাণিত হলে, সে ক্ষেত্রে ছবিটি সরিয়ে ফেলা হবে।

ঝরা সময় # ফিলিং ১

ঝরা সময় # ফিলিং ১

সময়টা ওর ঠিক মনে পরেনা। সম্ভবত, যে সময় সব সুন্দরী বা ফর্সা মেয়েদের নাম মনেহয় পিঙ্কিই হত। বা বলা যেতে পারে যে সময় “হাম বনে তুম বনে এক দুজে কে লিয়ে” বা “আব হ্যাঁয় জুদাই কা মৌসম” সেই সময়ের কচি কচি মন গুলিকে চিবিয়ে চিবিয়ে খাচ্ছে, হয়তো সেই সময়ের কথা বলতে চাইছে। আমি বুঝে নিতে চাইছিলাম সময়ের উষ্ণতা টুকু। বলে রাখা ভাল যে, আমি কিন্তু কোন গল্প লিখতে বসিনি বা আমি যা জিনিস তার দ্বারা আর যাই হোক লেখালেখি হবেনা, তা আমার বেশ জানা। একজনের জীবনের এক টুকরো রেশ, হারিয়ে যাওয়া সময় আমার কাছে আসতেই, ভাগ করে নেবার লোভ সামলাতে না পারার ফল এটা। সবটাই সত্যি, আবার সবটাই বিছিন্ন, আবার কখন গল্পও বটে। সে তখন ক্লাস সিক্স বা সেভেনে মানে অর্জুনদা  আর পিঙ্কি তার থেকে এক ক্লাস উঁচুতে লরেটো তে পড়ে। ভারি মিষ্টি দেখতে পিঙ্কিকে, অনেকের মত তার ও মনে হত অনেকটা ডিম্পল কাপাডিয়ার মত লাগে ও কে। কোন এক পারিবারিক সূত্রে, পিঙ্কির তাদের বাড়িতে যাওয়া আসা ছিল। তাও খুবই কম। পিঙ্কি জানতই না তার অগোচরে কেউ তার প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে। এতটাই সেই আকর্ষণের তীব্রতা, সে ওই বয়েসেই দাঁড়ি কামাতে চায়, হাফপ্যান্ট ছেড়ে ফুলপ্যান্ট পড়তে চায়, চুলের ভাঁজ নিজে থেকে যায় ঘুরে তাকে দেখলে। পুজোর অষ্টমীর জামাটা যেন তার জন্যই তোলা থাকে। আরও কত নানান স্মৃতি অর্জুনদার। ব্যাপারটা নিশ্চয়ই সাধারণ ছিলনা কারণ বাংলা মিডিয়ামের ছেলের ইংলিশ মিডিয়াম প্রেম। বাংলা মিডিয়ামে পড়া ছেলের ইংলিশ মিডিয়াম গার্লফ্রেন্ড মানে বিশাল ব্যাপার, বিশেষ করে বন্ধু মহলে। শুধু কি তাই? জিন্সের প্যান্ট ও পরে সেই সুন্দরী। যে ঝরা সময়ের কথা বলছি, সেই সময়টা এই রমকমই ছিল। পিঙ্কির স্কুল বাস না এলে,  ওর ৩৪বি তে করে স্কুল যাওয়া। আর সেই সময় গোলবাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থেকে নিচু মুখে বসে থাকা পিঙ্কির মুখের এক ঝলক। তাই নাকি সারাদিনের খোরাকী।

 

কয়েক সেকেন্ডর স্মৃতি এত উজ্জ্বল হতে পারে, সত্যি আমার জানা ছিলনা। আমার কিন্তু বেশ লাগছিল। আমার থেকে বড় একজনের থমকে যাওয়া সময়ের কথা শুনতে। বারবার প্রশ্ন করছিলাম অর্জুনদা এরপর কি হল গো? ওরপর কি হল গো? হাহাহাহা, প্রশ্নবাণ বুঝলেন, প্রশ্নবাণ। মাঝে মাঝে অপ্রস্তুত হয়ে পড়ছিল সে, তখন আমারও নিজের ওপর রাগ হচ্ছিল অতিরিক্ত কৌতূহল দেখাবার জন্য। বয়সের নিয়মে বেশ মেদের প্রভাব থাকলেও  মাঝে মাঝে কথার ফাঁকে ভাজ পরে যাওয়া চোখ দুটো বেশ উজ্জ্বল লাগছিল অর্জুনদার। ওই যে চিকচিক করে ওঠেনা চোখ, ঠিক অমনি আমি দেখলাম অর্জুনদার চোখে। এবার একটু এগোই, তা না হলে এ লেখা শেষ হবেনা, আমি তো আর গপ্পো লিখতে বসিনি। বলে রাখা ভাল, একটি বিশেষ কারণ ছিল আমাকে তার এই কথাগুলি বলার। যাইহোক, এবার একটু এগোনো যাক।

 

সেই বহুকাঙ্ক্ষিত সময় এলো অর্জুনদার জীবনে। একদিন তার এই অনুভূতির কথা, বার্তা হয়ে সুন্দরীর মরমে পশিল আরকি। এতদিন তাই তো চেয়েছিল। কিন্তু সে তার কথা জেনে গেছে শুনে অর্জুনদার টেনশান গেল বেড়ে। আসলে কি হবে ? কি হবে? ভেবে। অবশ্য রিজেকশানেরও ভয় ছিল মনে। দিন চলে যায়, সেদিক থেকে কোন খবরই আসেনা। হঠাৎ একদিন, একটি ক্যাডবেরি, আর লাইন টানা খাতার পাতায় লেখা বেশ কয়েক লাইনের একটি চিঠি জুটল তার ভাগ্যে। কে আর দেখে সেদিন তাকে। মাকে কোন রকম বুঝিয়ে বেড়িয়ে পরার তাল। আনন্দে সে ফুলপ্যান্ট পড়ে বেড়িয়ে পরল নিরুদ্দেশের পথে। কি লিখেছে সেটাতো পড়তে হবে তাকে। কোথায় বসে পড়বে, বাড়ির ছাঁদে? ধরা পড়ে যেতে পারে। শুধু কি তাই, এই অমূল্য চিঠি সে রাখবে কোথায়? নানান প্রশ্ন, আশঙ্কা নিয়ে পথ হাঁটা শুরু। সিঁড়ি দিয়ে নামার আগেই সে দেখে নিয়েছিল ভাঙ্গা ভাঙ্গা বাংলাতে লেখা অর্ধেক চিঠি আর বাদবাকিটা ইংলিশে। এমনিতেই সে দু তিনটে সিঁড়ি লাফিয়ে নামতে পারদর্শী। কিন্তু সেদিন এক লাফে দোতলা থেকে একতলা নেমে গেল। হাটতে হাটতে অনেক দুর আসার পর চিঠি খুলে পড়া। এখন আর মনে পড়েনা তার, কি লেখা ছিল সেই চিঠিতে। কিন্তু হাল্কাহাল্কা মনে পড়ে তার, তার কোন হিরো পছন্দ সেটা লেখা ছিল, দাদার কাকে পছন্দ জানতে চেয়েছিল সে। কত গুল নাম তার সঙ্গী হল সেদিন থেকে সুন্দরীর পছন্দের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে, যেমন, জর্জ মাইকেল, পিট্‌ সিগার, ডিলান। এরপর, স্কুল বাস না এলে ৩৪বি থেকে এক বা দুবার পিঙ্কি তাকিয়ে দেখেছে তার দিকে। এর থেকে গপ্পো আর বেশিদূর গড়ায়নি। একদিন অর্জুনদা জানতে পারল ফ্রাঙ্ক অ্যানথনিতে পরে, বেশ ফর্সা মার্কা এক ছেলের সাথে পিঙ্কির প্রেম। তখন আমির খান মার্কেটে এসে গেছে। তাই কেলে অর্জুনদার বাজার বড্ড বাজে। এ শুনে বিস্তর আঘাত পেয়েছিল অর্জুনদা। শুরু হল, সব রকমের স্যাড সং শোনা এবং দুঃখে আরও নানান কিছু করেছিল সেইসময়। সে সব এখানে বলা যাবেনা। এ ভাবেই চলেছিল বেশ কিছু বছর। আসতে আসতে তারা দুজনেই বেড়ে উঠেছে সময়ের হাত ধরে। তারপর, একসময় সেই ছেলের সাথেই বিয়ে হয় পিঙ্কির। আর এদিকে অর্জুনদার দেখেশুনে বিয়ে হয়, মানে আমাদের সঙ্গীতা বৌদির সঙ্গে।

 

দীর্ঘ পঁচিশ বছর কেটে গেছে। পিঙ্কি নামটা কিন্তু থেকে গেছে অর্জুনদার সঙ্গে। কয়েক দিন আগে অর্জুনদার এক আত্মীয়ের থেকে নেমত্তন্ন পেয়ে  গিয়েছিল উত্তর কলকাতার কোন এক রেস্তরাঁতে। বহুবছর পর অনেকে অর্জুনদাকে দেখে খুব খুশি। তারা নানান স্মৃতি নিয়ে কথা বলতে ব্যাস্ত। হঠাৎ করে অর্জুনদার চোখ পড়লো এক মহিলার দিকে। এক ঝলক, চিনতে অসুবিধা হলনা অর্জুনদার। সেই পঁচিশ বছর আগে ফেলে আসা স্মৃতি। এখনো সেই দীপ্তি, উজ্জ্বলতাকে বয়স ছুঁয়েও যেতে পারেনি। মনে পড়লো, বছর দুয়েক আগে অর্জুনদা খবর পেয়েছিল পিঙ্কির বর হঠাৎ স্ট্রোকে মারা যায়, মাত্র ৪৩ বছর বয়সে। খানিক ক্ষণের নিস্তব্ধতা,  অবাক হওয়া পেরিয়ে অর্জুনদার চৈতন্য ফিরতেই, দেখলো সামান্য হলেও রাগ ছিল যার ওপর, মুহূর্তের মধ্যে সে রাগ দুঃখে পরিবর্তিত। আসলে, আজ অর্জুনদা নিজেও তো ক্লাস নাইনে পড়া মেয়ের বাবা। তাই বুঝতে পারলো ক্লাস টেনে পড়া ছেলেকে নিয়ে সে কতটা সমস্যায় পরেছে। যাইহোক, ফিরে আসা যাক রেস্তোরাঁর সেই মুহূর্তে। অনেক ছবি এখন জলছবি, তাও নাকি সুখের। এখন ওর ছেলে ক্লাস টুয়েলভে পড়ে, ওরই পাশে দাঁড়িয়ে। মুহূর্তের মধ্যে ছেলেকে নিয়ে সে বেড়িয়ে গেলো রেস্তোরাঁ থেকে, খানিক দুরে দাঁড়িয়ে অর্জুনদা। হঠাৎ কি হল অর্জুনদার সে নিজেও জানেনা। মানুষ সবসময়ই সময়ের বিপক্ষে যেতে চায়। সেদিনের বড় হতে চাওয়ার মজা বুঝে নেওয়া মন আবার ছোট হতে চায় বোধহয়। মেয়েকে বলল দাঁড়া আমি আসছি। আসলে ভাল করে যে দেখা হয়নি তাকে। সবাইকে সরিয়ে দিয়ে সেই আগের মতো এক লাফে রেস্তোরাঁর গেটের বাইরে বেড়িয়ে এলো। এক ঝলকে সে দেখতে পেলো ছেলেকে পাশে বসিয়ে গাড়ি ড্রাইভ করে মিলিয়ে গেলো উত্তর কলকাতার গলিতে। হয়তো আবার দেখা হবে বা আর কোনদিনও হবেনা। কিন্তু স্মৃতির এক বিশেষ জ্বালা আছে, সেটা হয়তো থেকে যাবে। সেই জ্বালার ফল হল, তার থেকে ছোট এক ছেলেকে ডেকে তার এই বলে ফেলা।

এক আশ্চর্য নীরবতা নেমে এলো আমার আর অর্জুনদার সামনে। আমার মনে হল এটাও তো ভ্রমণ কাহিনি। যেখানে আমি না আমার আত্মা ভ্রমণ করছে। আজ আসি, মিলিয়ে গেলো অর্জুনদাও আমার কাছ থেকে।

 

স্বত্ব © বংব্লগার আপনার যদি মনে হয় বা ইচ্ছা হয় তাহলে আপনি এই লেখাটি শেয়ার করতে পারেন কিন্তু দয়াকরে এর লেখকের নাম ইন্দ্রজিৎ দাস উল্লেখ করতে ভুলবেন না। ভুলে যাবেননা চৌর্যবৃত্তি মহাদায়, যদি পড়েন ধরা।

যদি আপনি আপনার নিজের ছবি এখানে দেখতে পান এবং তাতে যদি আপনার কোন রকম আপত্তি থাকে তাহলে অবশ্যই ই-মেল করে আপনি উপযুক্ত প্রমাণসহ আপনার দাবি জানাতে পারেন।দাবিটি ন্যায্য প্রমাণিত হলে, সে ক্ষেত্রে ছবিটি সরিয়ে ফেলা হবে।