ছবির জীবন হয়ে ওঠার গপ্পো

সম্প্রতি, একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটলো আমার সাথে।আপনাদের অদ্ভুত নাও মনে হতে পারে।একটা সিনেমার সাথে কি মিল ভাবতে পারবেন না। ঘটনাটা বাস্তবের সাথে না সিনেমেটিক রেয়ালিস্মের মত ঠিক বলতে পারব না।আসলে, বাস্তব কখন সিনেমা আর কখন সিনেমা বাস্তব হয়ে ওঠে, এ আমার মত লোকের পক্ষে বলা বেশ কঠিন কাজ। যারা আমার বন্ধু বা আমাকে চেনেন তারা অনেকেই হয়তো জানেন যে আমি ছবি তুলতে ভালবাসি এবং অনেক সময় বেরিয়েও পরি পথেঘাটে ছবি তুলতে। দীর্ঘ ২৫ বছরের অভ্যেস, এখনও সাথে রয়ে গেছে আরকি।

কয়েকদিন আগে, চিৎপুরের এক ক্রসিং এ দাঁড়িয়ে আছি, লাল আলো কখন সবুজ হবে বলে। আলো সবুজ হল, ঠিক তখনি একটি ছেলে এসে জিজ্ঞাসা করলো, দাদা আপনি কি ছবি তোলেন? উফ, পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির হর্নের চিৎকার আর দাঁড়াতে দিলনা। খানিকটা এগিয়ে গিয়ে ভাবলাম, না ফিরে যাই। কেন একটা অচেনা ছেলে আমাকে এ কথা বলল। মুহূর্তের মধ্যে নিজের সাথে একপ্রস্থ প্রশ্নোত্তর পর্ব সেরে ফেললাম। দাঁড়িয়ে পড়লাম, ফিরে এলাম ক্রসিং এর কাছে। মনে হল লাল রং আর কিছুক্ষণ থাকলেই হয়তো ভাল হত। খুঁজতে শুরু করলাম ছেলেটাকে। ভাবলাম মুহূর্তের মধ্যে উবে যেতে তো পারেনা একটা জলজ্যান্ত মানুষ। অবশেষে খানিক দুরে এক চায়ের দোকানে ওকে দেখলাম। ওই দোকানেই ও কাজ করে। আমাকে দেখেই একটা স্পেসাল চা নিজেই বলে দিলো।আমার মধ্যে অবাক হয়ে যাওয়া অনুভূতিটা আরও গাঢ় হতে লাগল। জিজ্ঞাসা করলাম আমাকে কি দরকার? উত্তর এলো প্রশ্ন হয়ে, আপনি ছবি তোলেন তো? আমি বললাম হ্যাঁ ওই তুলি আরকি। ছেলেটি বলল “আমার কাজ হয়ে গেছে”। মানে?

এবার সে বলা শুরু করল, ওর নাম ধাম ইত্যাদি। আর বলল, বেশ অনেক দিন আগে নাকি আমি ওদের বাড়ির কাছেই ছবি তুলতে গেছিলাম। সেখানে আমি ওদের চায়ের দোকানে বসা ওর বাবার ছবি তুলেছিলাম। তখন ওদের নিজেদের চায়ের দোকান ছিল। এখন আর নেই। এখন ও অন্যের দোকানে কাজ করে।বেশ কিছুদিন আগে ওর বাবা গত হয়েছেন।ওদের বাড়িতে ওর বাবার কোন ছবি নেই। ও আমার তোলা সে ছবিটি চায়। একটা কথা বলার পর আমার বুকফাটা কান্না হজম করতে হল, “দাদা কিছু লাগলে দেব, কিন্তু বেশি টাকা দিতে পারবনা”। এক মুহূর্তে মনে হল জীবন এত কঠিন, আর জমা হল বুকের কাছে এক ডুংরি ব্যাথা।সে কিছুতেই বেরোতে চাওয়ার নাম নিচ্ছিলনা।

এই কথা শোনামাত্র, শিরায় শিরায় উত্তেজনা, না হয়তো, অন্যও কোন নাম না জানা অনুভূতি গুলি সক্রিয় হয়ে উঠল। এর পর শুরু হল বুঝে নাওয়া, কবে? কোথায়? কখন? কি?। চেপে বসল এক ধরনের জীবনবোধ, জেদ। মনে হতে লাগল অনেকবার হার্ডডিস্ক্‌ এর প্রবলেমের জন্য অনেক ছবি নষ্ট হয়ে গেছে।এটা যেন থাকে। নিজেকে সমাজে পরিচয় দিয়ে থাকি নাস্তিক বলে, আবার কখন ইংরেজিতে কায়দা করে এথিয়েস্ট ও বলি। আসলে নাস্তিক ও এথিয়েস্ট এর মধ্যে অনেকটাই ফারাক। যাইহোক, মাথার ভেতরে ঘটতে থাকল বিভিন্ন রাসায়নিক কারিগরি, তার ফাঁকেই ‘হে ভগবান’ বলে নিলাম।

নিজের ফোন নাম্বারটা ওর হাতে দিয়ে, বাড়ি গিয়ে খুঁজে দেখব প্রতিশ্রুতি দিলাম।বাড়ি ফিরে আসার সময় একটা সিনেমার কথা বারবার মনে পড়ছিল। Krzysztof Kieślowski এর “ক্যামেরা বাফ্‌” যারা দেখেছেন তারা ঠিক বুঝে গেছেন। বিশেষত, যেখানে সিনেমার প্রধান চরিত্র ফিলিপ মস এর তোলা তার বন্ধুর মায়ের সামান্য কয়েক মুহূর্তের ভিডিও, কি ভাবে বন্ধুর মায়ের মৃত্যুর পর তার বন্ধুর কাছে সেই ছবি ও সে গুরুত্ব পাচ্ছে।যেখানে ছবি জীবন হয়ে উঠছে আর জীবন ছবি।আমারও বারবার এ কথা মনে পরছিল।

প্রচুর খুঁজেছি বাড়ি এসে ছবি। অনেক দিন আগে তোলা ছবি, তখন অনেক বছর আগে তোলা হয়ে গেছে।আমরা হয়তো এই ভাবেই জীবন খুঁজি নিরন্তর।

 

স্বত্ব © বংব্লগার আপনার যদি মনে হয় বা ইচ্ছা হয় তাহলে আপনি এই লেখাটি শেয়ার করতে পারেন কিন্তু দয়াকরে এর লেখকের নাম ইন্দ্রজিৎ দাস উল্লেখ করতে ভুলবেন না। ভুলে যাবেননা চৌর্যবৃত্তি মহাদায়, যদি পড়েন ধরা।

যদি আপনি আপনার নিজের ছবি এখানে দেখতে পান এবং তাতে যদি আপনার কোন রকম আপত্তি থাকে তাহলে অবশ্যই ই-মেল করে আপনি উপযুক্ত প্রমাণসহ আপনার দাবি জানাতে পারেন।দাবিটি ন্যায্য প্রমাণিত হলে, সে ক্ষেত্রে ছবিটি সরিয়ে ফেলা হবে।

Advertisements

Hampi: Story of A Ruined Citadel – Part 1

Ugra-Narasimha-or-Laxmi-Narasimha-statue-in-Hampi

Top post on IndiBlogger, the biggest community of Indian Bloggers

Ariel view of Hampi 01

A huge circular, open-air venue with raised sitting and full of audiences roaring like anything on an occasion of a gladiator combat. Roman Empire, a civilization that conquered a vast stretch of land. Although I am holding a big sword that shines like a diamond, with my raised head looking at the juncture where deep blue sky melted down on the audiences, I entered the arena. All of a sudden my imagination took a swift turn from the alley of Roman Amphitheater to the era of Ramayana. Where huge stone Mandapa has been decorated with flowers and Nartakis were (Female Dancers) performing a dance. A warrior roaring, while standing on the summit point and about to set ablaze his fierce bow. All ludicrous thoughts engrossed me while I first got the glimpse of the city, the city called “City of Victory” or “Vijayanagara“. A piece of an ancient civilization that still exist on this modern planet and my journey to that place, the place called Hampi or Hampe, the Kingdom of Vijayanagara.

Hampi is a small hamlet, which stands on the southern bank of Tungabhadra river in Hospet, district Bellary of Karnataka, India (Earlier name Mysore or State of Mysore, on November 1, 1973, the name Mysore was changed to Karnataka. The name of the land Karnataka has come from `Kari-nadu` meaning the land of black soil). The group of monuments at Hampi declared as UNESCO World Heritage site for its outstanding universal value. The visual delight of Hampi is dominated by craggy hills, Tungabhadra river, plain surfaces or vale and widespread of ruins. The entire region consists of 1600 surviving remains which include temples, mandapas, forts, royal complexes, lofty towers, water structures, pillared halls, gateways, defense architectures, stables, and many more. The monuments in the core area are consists of many monuments, among them, only 56 are protected by UNESCO, 654 monuments are protected by the state government and left 300 await for protection.

Download Hampi Map

Download This Map JPG/PDF

Virupaksha Temple in Hampi 01 Ancient Market in Hampi 01

Hampi has two distinct aspects, one is mythological and other one is Historical. We need to consider few things for better understanding such as the history of pre and post-Vijayanagara empire, Vijayanagara style of architecture, and mythological aspects of Hampi. One more thing I want to add here regarding architecture. Although I am not an expert neither have the knowledge about the subject. Still, I feel like to share a point, which I think it’s relevant. It’s about the Islamic architecture in the Kadirampuram area. I found the monuments here are structurally quite similar what I have seen in Mandu. So, here in Hampi, I have seen a piece of Mandu or I can say a shadow of Mandu. It may sound little awkward to many but its a fact.

My trip to Hampi was a result of a sudden plan. I went to Bangalore this year to attend Wikipedia Conference and I made a sudden plan to visit Hampi, Pattadhakal and Aihole after the conference. It was a 6 days tour and I planned to stay 2 days each for a single place. As usual, it was a  solo trip for me. I had no idea before the trip, how architectural gems are scattered in 30 square kilometer area of Hampi and to explore the place I need to devote adequate time. Instead of covering many places half-heartedly, it would be better to explore a single place thoroughly. That’s why later on during my trip, I took the decision to drop the plan to visit rest of the places. Hampi literally consumed my entire vacation. But I spent really a beautiful time there. Apart from the fierce sun ray, which burnt my skins of my both the hands and forehead. Other than this episode the entire trip was exuberant and memorable. And obviously very enriching too.

Hampi & my memories
In my childhood days, few TV shows had a huge impact on me. Among those shows, there was one, Shyam Benegal’s Bharat Ek Khoj (Discovery of India). I don’t know whether people still remember it or not. But certainly, I remember those episodes on Vijayanagara. Where Om Puri played the character of Krishna Devaraya and I’ve developed a deep fascination for the Vijayanagara since that time. As time grows, the desire to see the place was gone into hibernation mode but didn’t erase it completely from me. There were many reasons for the presence of Hampi in my mind. One of them was certainly the impact of movies. In certain intervals, I have seen many movies which were filmed in Hampi and that made my desire for the place kept alive.

Vittala temple in Hampi 01

Temple in Hampi 01

Some Hindi or other Indic language’s movies extensively filmed in Hampi. I don’t remember the name of those movies. But I have noticed temples of Hampi in many Mithun Chakraborty starter movies, especially during his dance sequences in some songs. The Jackie Chan-Mallika Sherawat starer “The Myth“, the major portions of the film were shot in the Hampi region. The recent one is Rowdy Rathore that ignited my desire once again. Although, I have already been there. But nowadays, when I see the latest 50 rupees note that commemorate the famous stone chariot of Hampi that provoke me.

Tungabhadra or Pampa River in Hampi 01

History – Pre Vijayanagara Period
If we keep the history of Vijayanagara empire aside, there was a civilization in this site many centuries ago before the Vijayanagara Kings selected it for their capital. There are many artifacts has been unearthed which proves that the history of Hampi dates back to NeolithicChalcolithic times. Discovery of handmade pottery and neoliths of that period during an excavation near Vitthala temple. Discovery of Asoka’s rock Firman, one from Udegolam and other from Nittur both are situated in Bellary district. Those are the pieces of evidence which proved that the region was within the Asoka’s Kingdom during 3rd century BC. Prior to the rise of Vijayanagara empire, this site and its environs were under many dynasties such as Chalukyas of Kalyani and Badami, Hoysalas, Yadavas, Kadambas, and others.

If anyone visits Bangalore Government Museum, can see many artifacts of Neolithic – Chalcolithic times discovered from Hampi.

History – Vijayanagara Period
Delhi Sultanate was shattered and divided after the attack by Timur. It was not the death but the entire power of Delhi was gone into a coma. It was difficult for Delhi to regain, mobilize and channelize the power in north India. On same time frame, if we look at the scenario of south India, there were many Hindu kingdoms. Islamic rulers always dominated the north India but couldn’t invade satisfactorily in South India. Muslim rulers had the tendency to threaten each and every existence of Hindu dominion in south India. At the beginning of 14th century, about 1310 AD, Malik Kafur, who was the general of Alauddin Khilji of Delhi attacked Deccan (the province of Karnataka spreads over the Deccan Plateau) with immense power and captured Warangal. Within the span of two years, he abolished two dynasty, Hoysalas, and Yadavas.

The history of Vijayanagara had witnessed many ups and downs but as soon as Hindu rulers ascended the thorn about 1336 AD and founded Vijayanagara empire, for more than two centuries remained as an iron wall from the Muslim invasion. The history of the rising of Hindu kingdom was started, two brothers Hakka and Bukka who were actually served Kakatiya Prataparudra of Warangal and during the Muslim invasion in Warangal in 1323 AD they fled to Kampili. They started working as a treasury officers in Kampila. When Muhammad Bin Tughlaq invaded in Kampili, two brothers were arrested and taken to Delhi, where they embraced (perhaps forcefully) Islam. In 1329 AD, there were many rebellions started against imperial rule, when Muhammad Bin Tughlaq left for North India. Many movements were started and the Muslim governor was unable to handle the situation of Kampili, sought help from Delhi. Hakka and Bukka were then sent to the province.

Not only they restored the law & order of the province, also declared independent Hindu empire “Vijayanagara”. They gave up Islam and once again embraced Hinduism. It was quite natural and expected from these two brothers. Hakka ascended the thorn as Harihara, with the assistance of his brother Bukka. This was the beginning of Hindu kingdom Vijayanagara by Sangama dynasty. The name of the dynasty “Sangama” named after their father’s name. Sangama had five sons Harihara, Kampana, Marappa. Bukka, and Mudappa. Among the sons, Harihara was the eldest one.

First Dynasty of Vijaynagar, Hampi Second and Third Dynasty of Vijaynagar, Hampi

It would be tough for me to furnish the rest of the history of 400 years, here. But without mentioning Krishna Devaraya (1509 -1530), this post would be incomplete. According to many historians, the period of his reign was a golden age and he was the greatest ruler of all time in the history of Vijayanagara. His imperial authority was established all over the south India. Not only he was a great ruler but also an accomplished scholar and a poet. He wrote many Sanskrit and Telegu texts. His court was consists of eight great poets known as an “Astha-Diggaja“. Among them, Allasani Peddanna was his poet laureate and a noted Telegu poet. Temples, Gopura, Ranga-Mandapa and many others structural gems were erected under his patronage. He also made many improvements to the existing structures of Vitthala and Hazara Rama Temples. After his death, the empire encountered steady decline and never get back to its old glory.

Virupaksha Temple in Hampi 02 Stone Chariot in Hampi 01 Stone pillar of temple in Hampi 01

Hampi in Mythology
Hampi is an important pilgrimage center for the Hindus, as many legends from Ramayana are associated with this place. Hampi or Hampe the name believed to be derived from the Pampa river, the ancient name of the river Tungabhadra. It is believed that Kishkindha of Ramayana has been situated near to Hampi. As all, we know that Vali and Sugriva were the rulers of Kishkindha. Rama and Lakshman came to the south in search of Sita. When she was abducted by Ravana and he took her to Lanka. There were feuds between Vali and Sugriva and Sugriva took refuge to the Matanga Parvat. Here Lord Rama met with Hanuman and Sugriva. Rama killed Vali in a war and he restored the kingdom of Sugriva. After that Sugriva stayed at Malyavanta Parvat. Both the hills are still there and popular among pilgrims. Matanga Parvat is situated on the east side of Hampi and the summit point of the hill is very popular among normal tourists for the splendid view. Malyavanta Parvat is situated in Kampili and there is Raghunatha temple dedicated to Rama. Just beside of the temple there is the famous cave of Sugriva. There are tons of legends associated with the entire region of Hampi.

Vijayanagara Architecture
To be very honest, I am no one to comment or write about architecture neither I have the knowledge nor have the ability. But, there is always a but, because when I was there, I was literally mesmerized seeing the structures and developed an interest to know about it little further or you can say, feel deep urge inside. Basically, what I learned is that Vijayanagara style of architecture is a mixer of many styles like Chalukya, Hoysala, Pandya and Chola. That’s why, one can notice Chalukya, Hoysala, Pandya and Chola influences in many temples or in other architectures in Hampi. Vijayanagara temples are normally surrounded by a strong encirclement. Small shrines are consist of a garbhagriha (sanctum) and a Veranda. Medium-sized temples have a garbhagriha, shukanasi , a navaranga (antrala) connecting the sanctum and outer mandapa (hall), and a rangamandapa (enclosed pillared hall). Large temples have tall Rayagopuram (a large pyramidal tower over the entrance gate to a temple) built of wood, brick, and stucco in Chola style. Temples of Vijayanagara period made with local hard granite stone in Badami Chalukya style. Whereas sculptures were made of soapstone (chloritic schist) because soapstone is soft and can be easily curved. One more thing, I have noticed that one mythical creature called Yali engraved in most of the temple pillars and that same can be seen in many Hindu temples in the other parts of India. This creature may be portrayed as a part lion, part horse, part elephant, sometimes part lion and part griffin or sometimes some bird-like features. Yeli is basically a motif in Indian art.

 Stone pillar engraved Yeli in Hampi 01 Stone pillar engraved Yeli in Hampi 02 Stone pillars of temple in Hampi 02

Virupaksha Temple in Hampi 03 Mural painting in Hampi Temple 01

Secrets of Hampi
There are many myths and secrets surrounded in Hampi. Some I read and some are I heard. Here, I will state two secrets that I have witnessed on my own.

Musical Pillars – Yes, you read it correctly, musical pillars. On the first go, I was literally mesmerized and felt awe. How come stone pillars can produce musical notes? Yes, it’s a fact and I heard it. Vittala temple of Hampi standout for the architecture. There are 7 pillars inside the Vittala temple which can produce musical notes when they tapped. And each of the pillars produces a different musical note. A group of people stood beside me with their guide at the temple. I heard the guide saying to the group that during the British rule in India, Britishers found it very mysterious. They wanted to know the secret behind these pillars. So, they broke 1 or 2 pillars and found nothing inside. Only, the pillars were hollow from inside and nothing else.

Inverted Image – Virupaksha temple another architectural gem of Hampi. Its gopuram (a large pyramidal tower over the entrance gate to a temple) is a 9 storied structure. And this secret is related to it. The inverted shadow of this gopuram can be seen in a small room, which is located far away from the gopuram. There is a small hole in a wall and when light passes through it that creates the inverted image of the gopuram. Basically, its something similar to a pinhole camera. The astonishing fact is that how they created camera effect with the stonework few hundred years ago. I have captured the inverted image with my camera. But unfortunately, I have lost most of the photos of my Hampi tour. Photographs were stored on my laptop and one fine morning it was crashed. Although, some photographs I have recovered. But a major portion has been lost.

Hampi at Present Day
I wrote enough about the past and now I should talk about some present. I must say that present condition of Hampi at stake. This account is based on, what I have noticed on my own eyes and some I get to know while interacting with villagers during my visit. The politics were there in ancient times and its still exists in modern time in the name of conservation. Cutting a long story short. Smuggling of mineral from the region is no more secret to the public and political goons have made it legalized. This could harm the environment of the entire region. But this is not my concern and shouldn’t talk about it. But one thing we must know that many gangs are still active and digging in the core and surrounding area of Hampi for treasure trove. These gangs are active since when treasure trove was discovered from Sri Padmanabhaswamy temple worth over Rs 1 lakh crore. When I asked about it from villagers, most of them refrained to make comment. But some of them opened their mouth and what they stated me if by any chance have little truth in it. Undoubtedly, Hampi is in danger. According to them goons and political leaders have a nexus. Many gangs are still operating in the area to unearth treasure trove with the patronage of political power. Huge treasure trove has already been discovered from Hampi a few years ago and it was shared among goons and political leaders. They added, whenever someone digging in any area of Hampi, something would be recovered. I don’t know whether this is right or wrong but if a portion of it is true. That would be very dangerous.

Ancient Market in Hampi 02
New construction work in progress in Hampi core area 01

Here, I must comment about the roles of the authorities directly involved in restoration work, conservation, and also the preservation of the monuments of Hampi. The policies and especially the role of Archeological Survey of India, Hampi World Heritage Area Management Committee, and UNESCO are questionable. Questionable for the outsiders like me and quite obviously questionable for the locals as well, especially those who lost their homes in the name of conservation. In the name of preserve the ancient look and feel of Hampi, all modern structures at Hampi Bazar area were demolished, left 326 family homeless and forced them to live under the open sky. On the other hand, building illegal structures in the core area of Hampi and no steps have been taken yet. All the new construction works are taken place under broad daylight and it’s hard to believe that our law and order have no idea about it. The first one, the construction work that I have noticed at the river bank area which is located just back side of Virupaksha Temple. When I asked the construction workers about the new construction, the answer I got was so irritating. They asked me to go to the police station and as well as to minister to ask about it. And they advised me to behave like a tourist, otherwise, it would be difficult for me to roam around. In fact, I have noticed under construction building near Krishna temple, which falls under core area.

Ancient Market in Hampi 03

One more thing to add. It’s a known fact that ASI uses some chemical compound while cleaning ancient monuments. This is completely my observation that there have some issues with the chemical compound. This chemical compound has bad effects on the monuments. It cleans up in such a way the precisions of the monument gets lost and monuments lost it ancient look and charm. Most of the time, the craftwork on the wall of a monument erased or faded out after the cleaning. I have noticed, the same in many places which are protected by ASI. Sometimes due to the chemical effect, the joints of a monument gets hurt and become fragile and loosen up. After the rain, water leakage from the joints happen. Not only in Hampi, same I have noticed it in Mandu. That happens after so-called cleaning. I have no clear idea about it because of lack of knowledge. But seriously, I doubt the process and as well as the materials used for conservation by ASI.

The Monuments of Hampi
A) Citadel
1) Queen’s Bath
2) King’s Palace Enclosure (Large Tank, Mahanavami Dibba, Base of Kink’s Palace, King’s Audience Hall)
3) Hazara Rama Temple
4) The Mint
5) Danaik’s Enclosure (Mosque and Idgah, Muhammadan Watchtower, Band Tower)
6) The Zanana Enclosure ( Water Pavilion, Women Guards Quarter, Base of Queen’s Palace, Lotus Mahal, Hazara Rama Bazar, Pattanada Ellemma Temple, Ranga Temple, Elephant Stables, Guards Quarters, A Group of Temples, Octagonal Bath, Chandra Sekhara Temple, Water Tower)
7) Ganigitti Temple
8) Pattabhirama Temple

B) Kamlapuram to Hampi
1) Octagonal water Pavilion and Bhojana Sala
2) Underground Temple
3) Uddhana Virabhadra Temple
4) Chandikesvara Temple
5) Lakshmi Narashima
6) Siva Temple
7) Sarasvati Temple
8) Krishna Temple
9) Sasivekalu & Kadalekalu Ganesha Image
10) Vishnupada
11 ) Temples on Hemakuta Hill
12) Virupaksha Temple
13) Temples near Virupaksha

C) Along the Bank of the Tungabhadra
1) Kodandarama Temple
2) Achyuta Raya Temple
3) Matanga Parvatam
4) Varaha Perumal Temple
5) Rama Temple
6) King’s Balance
7) Stone Bridge
8) Raya Gopura
9) Vishnu Temple
10) Vitthala Temple
11) Malyavanta Raghunatha Temple

D) Anantasayanagudi
1) Vishnu Temple

E) Malpannagudi
1) Soolai Bhavi – Stone Well
2) Mallikarjuna Temple
3) Well and Watershed

F) Kamalapuram
1) Nagaresvara Temple
2) Stone Well
3) Some small temples

G) Kadirampuram
1) Muslim Tombs

Complete list of monumnets in Hampi download

Download the complete list of monuments of Hampi

When to go:
Winter, Winter, and Winter. Avoid traveling to Hampi from the month of March to May. In winter it will be easy for you to explore the place. Summer would be pathetic. Do not plan to visit during summer, there will be a risk of dehydration and also sunburn. I got a sunburn during end February, so be careful.

Getting there:
By Plane
There are two domestic and one International airport, which connects Hampi. Bangalore is the nearest international airport, 350 km away from Hampi. Bellary is the nearest domestic airport, which is 60 km away and Hubli is another airport, 143km away from Hampi.

By Train
The nearest railway station is Hospet Junction, which is 13km away from Hampi. Overnight trains are available, which run several times a week from Bangalore.

By Bus
I think Bus is the best option available from Bangalore. Karnataka State Road Transport Corporation has daily bus service to Hospet from Bangalore and Mysore. There are private bus companies operating from all major places which connect to Hampi. Book your tickets in advance and you can book your ticket online through Apps. The bus ride would cost you 600 INR onward.

By Car
Bangalore is 353km from Hampi and one can hire car but certainly cost high. The road to Hampi is excellent but deteriorates after Chitradurga. You are also likely to encounter traffic jams. So, if you are planning a road trip by car, start your journey at night.

Where to stay:
You can look for your accommodation in Hampi or Kamlapuram or in Hospet. There are several guest houses in all those places at in any price range starting from INR 300. But staying at Hospet gives easy accessibility to Railway Station and better Hotels. Most guest houses in Hampi are rather basic. Budget guest houses are situated across the river on the Hampi Island, popularly known as the ‘Hippie Island‘. If you are there with your family, I will suggest you to avoid “Hippie Island”.

Eat and Drink: There are lots of places where you will get satisfying and inexpensive food and also can try famous south Indian beverages. Thai, Italian and continental foods are available in southindianised style. 

Getting around:
1) Guides:
Guides are available for whole sightseeing and also available in the major locations, on the spot. But I would suggest, request a guide from Karnataka Tourism Dept.
2) Walk:  Walk, Walk and Walk there is no alternative way to explore the sites of Hampi. Have to be covered by foot.
3) Bicycle: Can be hired to visit on the cost of 100/150 Rupees per day but a lump sum amount has to be deposit as a security.
4) Motorcycle: A Scooty or Moped will cost you about 250-350 INR for a day and 100CC motorbikes for 350-500 INR a day with additional fuel charges. 2-3 Liters of petrol is sufficient for a day.
5) Car: You can hire a car, that would come around 3000 INR onward and this is easiest and quickest way to visit.
6) Auto-rickshaw: Normally it charged ₹750 to ₹1,000 for a day site seeing with pick and drop facility from Hotel.

Points to be Noted
1) Be aware of Monkeys. They can snatch anything from you.
2) Mosquitoes are like big birds. So, keep mosquitoes replant with you.
3) Do not take drugs and alcohol in Hampi area, as it’s not a regular tourist place but its a religious place for Hindu. Please respect other and other’s religion.
4) Please wear proper cloth, cover your skin properly. I have noticed during my visit that most of the foreign tourists have a tendency to wear revealing attire, which is not acceptable by the locals.
5) Hampi is also popular among mountaineers. If you climb over boulders take extra precautions.
6) Sun Screen lotion is a must.

References
1) Hampi by Devakunjari
2) Temples of Bellary by C.S Patil
3) Karnataka – Temple Architecture by R. Gopal and A.V.N Murthy
4) Hampi guidebook by ASI
5) A Forgotten Empire Vijaynagara – Robert Sewell
6) Sources of Vijayanagar – Francis Dewsbury
7) Hampi Ruins Described and Illustrated – A.H. Longhurst

 

Thanks – Special thanks to Karnataka State Department of Archaeology and Karnataka State Tourism Development Corporation for their help.
Dr. Aarya Joshi for your inputs about stone chariot. Tito Dutta for all your help.

Copyright © BongBlogger
you can share this post subjects to the conditions that please give due credit to Author Indrajit Das and do not alter before sharing. Request, do not Plagiarize.

If you found your photographs here and have issues with that please E-mail me with your requests, I will remove your photographs from the public domain.

Mandu: A Ruined City in the Heart of Incredible India – Part 1

Baz Bahadur’s Palace in Mandu Fort, Madhya Pradesh, India

Jahaz Mahal in Mandu, Madhya Pradesh, India
Once, it was a thriving city situated on the top of a hill, surrounded by the dense forest, where nature was the protector of the fort. History was born but lost and drowned with the passage of time. A new history was born again but that also remains silent as time grows. Love bloomed, where Islamic faiths melted into the Hindu faiths, become myths and part of folklore. Music was born, which resonated in the vale and the hills. Even conspiracies were hatched, where a sharp dagger killed the faith of a father. Whatever happened, the destiny never encountered permanent sorrow, as joy was in the air of Mandu. Mandu, a story of a city called Shadiabad or “City of Joy“, Anand Nagri.

It was late evening when our car entered in the horizon of Mandu. We were coming from Hanuwantiya after attending the Jal Mahotsav. It was too dark to see, only gazing at the splendid night sky from the window of my car. It was a beautiful clear night sky, haven’t seen for many years. Aided by the light of the moon and light of our car, I could spot at interval, some gray walls of the fort. They evoked eerie feelings. While passing along the huge walls and crossing the huge gates of the fort, as I felt like, I am heading toward an ancient civilization from the present time, though the time has stopped. I stepped into the hotel room and waited for the sunrise. My eagerness to see the place was condensing like anything. I quickly flipped through the pages of a book on Mandu, and I was stuck. I had read the same book earlier but this time it was completely different reading altogether and my imaginations ran wild. Rani Roopmati, Bazbahadur, Raja Bhoja, Shah Jahan, and even Nur Jahan, those characters were started getting to be alive straight from the pages of a history book. If you are like me who love reading an old history book and love to visualize the perspective narrated. Then, I am pretty sure you would certainly feel being in ancient time. Same happened with me and I couldn’t sleep in that night.

Map of Mandu Fort, Madhya Pradesh, India List of Places in Mandu, Madhya Pradesh, India

Download Map

History Of Mandu
The ruined hill fort of Mandavgad or present day Mandu is situated about 35 km away from the Dhar city and 95km from Indore, in the Malwa region of western Madhya Pradesh. The fort is situated on a high plateau nearly 635 m high above the sea level and the road to the fort passes through the dense forest. Sturdy gates were built along the passages for the extra protection. The ramparts of the Mandu fort encompasses approximately 45 sq km and the outer periphery estimated around 75 sq km.

There is a popular saying in central India “Kaha Raja Bhoj aur Kaha Gangu Teli”. Many of us heard of it but never cultivated, who are these people? who were Raja Bhoj and Gangu Teli? This proverb may have originated at Mandu. Was this a comparison between the great king of Telangana Gangaikonda, Rajendra Chola with the very powerful King Bhoja, who was culturally and educationally were very rich. By the end of the 10th century, during the reign of King Bhoja and king Munja, Mandu gained prominence in the history of northern India of that period. But to know the history of Mandu, we need to look back beyond the 10th century. One must understand the historical journey of Mandu. One that began from Madapa-Durga and ended to present day Mandu.

Jahaz Mahal in Mandu, Madhya Pradesh, India Jami Masjid in Mandu - Panorama View

Mandu in earlier days was a very important place for the travelers, pilgrims and for the traders from northern India. Even north Indian traders used this place as a transit point to trade with Europe. Traders used to come here en route Maheshwar, where river Narmada flows the only stream that moves east to west to meet the Arabian Sea. The place therefore gained so much of importance and many powerful kings had their eyes on Mandu. If we minutely watch the Architectures of Mandu, we can understand that how architects and the Kings used this place as an experimental canvas for Architecture. It is said, that Mandu had around 334 palaces, 40 large tanks, 300 mosques and 800 temples, unfortunately, there have no traces many of them. Although, most of the standing monuments were erected in between 1401 AD to 1526 AD, of hardly in 125 years. Islamic rulers like Akbar, Shah Jahan, Jahangir, and even Nur Jahan appreciated the Mandu very much and enjoyed the charm and beauty of its scenery.

List of Important Kings of Malwa

Mandu in 6th Century – An inscription discovered from Talanpur in Dhar district, which is dated 555 AD (612 Vikram Sambat) and it states that a merchant named Chandra Simha installed a statue in a temple, located in “Mandapa Durga”. It’s believed that the origin of the Sanskrit name Mandapa Durga derived from Prakrit (one of the many Middle Indo Aryan Languages ) and its vernacular equivalent is Mandava. Even now, this place is called Mandava by the locals of the region. It’s further believed, that the name Mandu has been derived from the corruption of Mandava. Persian histories of the Medieval period also mention Mandava. According to Persian historian Firishta, the early fort of Mandu was built by Anand Deo Rajput of the tribe of Beis in 6th – 7th Century AD. Unfortunately, no trace of the structure survives.

Mandu in 10th Century & Paramaras – According to another inscription 946 AD (1003 Vikram Sambat) discovered from Pratapgadh, Rajasthan, states that Prince Madhava was then a great governor and his Commander-in-Chief Sri-Sarman was taken care of the state at Mandapika, that is Mandu. It seems a part of the fortification was built during the 10th century. But In between 6th century and 9th Century, we hear nothing about this fort. Paramaras rose to power in Malwa region on the verge of the 10th century and during that period this place raising it to an independent kingdom. They first set up their capital at Ujjain and later at Dhar. Malwas attained its height of power, especially under the Kings Munja and Bhoja. Munja-Talao or tank which is within the Royal enclave was made to commemorate King Munja. During the reign of King Bhoja, Mandu was enriched culturally and educationally. An image of Saraswati or Vagdebi has found in Mandu, which was a favorite deity of King Bhoja.

Lohani Cave in Mandu, Madhya Pradesh, India Lohani Cave in Mandu, Madhya Pradesh, India

Mandu in 11th to 13th Century – An inscription discovered which is dated 1068 AD (1125 Vikram Sambat) refers to Sri-Bhattaraka-Devendra-Deva, a chief under the Paramara King Udayaditya. It’s likely to be that the Lohani caves were excavated and also Saiva temples were built within the proximity of Mandu or other parts of the hill during that time. Another inscription found in the Fort, which states a long hymn of Lord Vishnu composed by Bilhana. He was the Minister of war under the Paramara King Vindhyavarman, who ruled Malwa at the end of 12th century. During the rule of King Arjunavarman (1210-1218 AD) many temples were erected in the fort under the patronage of Sallekhana, who was the chief in the court of King.

Lohani Cave in Mandu, Madhya Pradesh, India Lohani Cave in Mandu, Madhya Pradesh, India

First Muslim ruler to have invaded to Malwa region was Shamsu’d-Din-Iltutmish in 1227 AD and he captured Bhilsa and Ujjain, that time the Paramara King was Devapala. Devapala concluded a treaty and Mandu was left untouched. Paramaras continued to rule Mandu but with as a weakened and shattered power. Jayavarman ruled Mandu from 1256 – 1261 AD. He was succeeded by Jayasimha II who subsequently was defeated and killed in a battle by King Chahamana in 1269 AD. In 1283, Bhoja II came into the power of Malwa and during his time, Jalaluddin Khalji invaded to Malwa in 1293AD and devastated it. Although, Mandu remained under Hindu rulers until 1305 AD.

Mandu in 14th CenturyAlauddin Khilji captured Malwa in 1305 AD and with the help of a spy Ayn al-Mulk Multani, who was later appointed as the Governor of Malwa. He secured the access to the fort through a secret route and killed Mahlak Deo. This was when the Hindu kingdom of Malwa was dissolved and the entire region was captured by the Muslim ruler. This was the start of an era, where Hindu and Jain temples of the 10th to 12th century were converted into Mosques. Mosques were erected with the remains of the temples in the hill.

Mandu in 15th Century -During the rule of Muhammad-Bin-Tughluq, Dilawar Khan Ghuri was the Governor of Malwa. In 1401 AD, Dilwara Khan declared himself as an independent ruler of Malwa and kept Dhar as capital. He died in 1405 AD and his son Alp Khan (Hoshang Shah) ascended the throne. He shifted the capital from Dhar to Mandu and he ruled for 27 years. During his period the fortification of Mandu was improved. He showed great taste in architecture. He erected many monuments, palaces, and mosques during his reign. Hoshang Shah died in 1435 AD and his son Ghazani Khan ascended his father’s throne. Ghazani Khan (Mahmud Shah) was poisoned by his own confidante Mahmud Khan and he died in 1436 AD.

Tomb of Hoshang Shah in Mandu, Madhya Pradesh, India Tomb of Hoshang Shah in Mandu, Madhya Pradesh, India

This was the end of Ghuri dynasty and Mahmud I became the first Khaji ruler of Mandu. His spirit and passion for wars was much like that of Hoshang Shah. He fought against the rulers of Gujarat, Deccan, Juanpur and even against the Sultan of Delhi. He was always engaged in Military expeditions, with such a spirit, the kingdom of Malwa reached its widest territorial limits. He commemorates his victories over the Rana of Mewar, by erecting a seven storeyed tower and also erected some magnificent structures like his own tomb, Ashrafi Mahal etc. He died in 1469 AD and his eldest son Ghiyasuddin became the ruler. He was a peaceful and religious king. He had a huge addiction for women and never showed interest to engage himself in war. He ruled for 31 years and died in 1500 AD at the age of 80. It is said that he has been poisoned by his son Nasiruddin.

Rani Rupmati Pavilion in Mandu, Madhya Pradesh, India Rani Rupmati Pavilion in Mandu, Madhya Pradesh, India

Mandu in 16th CenturyNasiruddin ascended father’s throne in 1501 AD (Not properly referenced, some documents says 1500 AD, some 1501 AD). He was mostly occupied with domestic feuds and unhappily ruled his kingdom for 10 years. After him, his third son Mahmud II ascended the throne. He was also fond of erecting palaces and during his rule, he built a place near Rewa-Kund, which was later known as Baz Bahadur Palace. Important monuments like Gada Shah’s shop, Gada Shah’s Palace and Darya Khan tomb were erected in his reign. Also, engaged with domestic feuds like his father.Bahadur Shah invaded Malwa in 1526 AD and successfully captured the entire region on 28 March 1531. Humayun had two major rivals and one of them was Bahadur Shah of Gujarat. Humayun attacked and conquered Mandu in 1534 AD. As soon as Humayun left Malwa, Mallu Khan assuming the title of Qadir Shah formed the dynasty in 1536 AD.

Gada Shah’s Shop in Mandu, Madhya Pradesh, India IMG_1142

In 1542 AD Shah Jahan conquered Malwa and appointed Sujjat Khan as governor. He ruled Malwa as an independent ruler and he died in 1554 AD. Afer him, his son Malik Bayazid declared himself as a ruler and ascended his father’s throne with his regal name Baz Bahadur. He was fond of Music and his love for Rupmati distracted him from royal responsibilities. In 1561 AD, Adham Khan, general of Akhbar invaded Malwa and Baz Bahadur fled from the battle. They were about to take Rani Rupmati as a prisoner and instead of falling in their hands, she chooses to commit suicide. The love story of Baz Bahadur and Rani Rupmati is a popular theme in the folklore of Malwa and inseparable from this fort. Mandu lost its importance and glory under the Mughals. But, it was under Mughals, till Aurangzeb’s reign, until captured by the Marathas in 1732 AD by Peshwa Baji Rao.

Delhi Gate in Mandu, Madhya Pradesh, India Hathi Pol Gate in Mandu, Madhya Pradesh, India

Rainwater Harvesting System

As I have mentioned earlier, how Architects and the Kings used this place as an experimental canvas for Architecture. Apart from erecting grandeur buildings and monuments, they used the place so technically for rainwater harvesting. The most astonishing fact is, how they made it possible, a few centuries ago. The fort is situated around 635m above the sea level and had no access to ground water. So, they had to be dependent on rainwater. It was a need to develop a system to preserve and proper utilization of rainwater. If we pick up, Jahaz Mahal as an example, we can notice, a beautiful system for storing rainwater. Not only have a provision for harvesting the rainwater but it also provided a cooling system to the entire palace. There are two ponds on the both the sides of the palace named Munj Talao and Kapur Talao. Breeze and evaporation from these two water bodies cooled down the entire building. Basically, the entire fort area had been used scientifically for the storage of rainwater. There are many Baodi, Talao, for the purpose of storing rainwater and there was a system for filtering the rainwater. Almost all the buildings have its own system for preserving rainwater. I think. Mandu is the perfect example of Rainwater Rarvesting.

Interior of Hamam in Mandu, Madhya Pradesh, India

The archaeological sites of Mandu classified into five groups
A) Central Group
B) Royal Group
C) Rewa Kund Group
D) Darya Khan’s Tomb Group
E) Sagar Talao Group

Apart from these major groups, there are other scattered sites all over the Mandu. There are also several gateways leading to the fortified of Mandu.
F) Other sites or Monuments.

List of Monuments according to Group. I will cover individual group including monuments in separate blog posts.

A) Central Group (Group near the Village of Mandu)
1) Asharfi Mahal
2) Jami Masjid
3) Tomb of Hoshang Shah
4) Tomb of Mahmud Khilji
5) Boria Mahal

B) Royal Group
1) Hindola Mahal
2) Jahaj Mahal
3) Munj Talao
4) Kapoor Talao and the Ruins on it’s Bank
5) Jal Mahal
6) Royal Palace and Champa Baodi
7) Taveli Mahal
8) Nahar Jharoka – Tiger Balcony
9) Dilwara Khan’s Mosque
10) Hathi Pol
11) Gada Shah’s Shop and House
12) Adheri Bawdi
13) Ujawala Bawdi

C) Rewa Kund Group
1) Rani Roopmati Pavilion
2) Baz Bahadur’s Palace
3) Rewa Kund

D) Darya Khan’s Tomb Group
1) Darya Khan’s Tomb
a) Darya Khan’s Tomb
b) Lal Sarai
c) Darya Khan’s Mosque
d) Somvati Kund
e) Kharbuja Mahal
2) Hathi Paga Mahal or Elephant’s leg Palace
3) Roja Ka Makbara

E) Sagar Talao Group
1) Dai ka Mahal
2) Dai ki Chhoti Bahin ka Mahal
3) Malik Mughith’s Mosque
4) Caravan Sarai
5) Jali Mahal (situated on the top of a small mound)
6) Unknown Tomb

F) Other sites or Monuments
1) Lohani Caves and Temple Ruins
2) Delhi Gate
3) Chappan Mahal
4) Nil Kanth Palace
5) Chisti Khan’s Palace

Download Map

Mandu is a huge city, so it’s understandable how the monuments are scattered in the large area. So, One can see Mandu in a day or two or it could happen that not get enough of it in a week. To extract the essence, the place demand time. Where you should sit and think and can attain a sense of Inner Peace. A place with so much of magnetism, demands a retrospect of the history of the place itself.
I know, I couldn’t spend enough time due to the limitation of time, but I will surely visit Mandu in future.

Sagar Talao in Mandu, Madhya Pradesh, India Asharfi Mahal in Mandu, Madhya Pradesh, India Hindola Mahal in Mandu, Madhya Pradesh, India Asharfi Mahal in Mandu, Madhya Pradesh, India

When to go: Winter and Rainy season. In winter it will be easy for you to explore the place and in the rainy season, the lush greenery will give you eye-popping visual delight. Summer would be pathetic.

Getting there: The nearest railway station and airport are at Indore. Which is around 95 km from Mandu. You have to hire a car from Indore or get there by direct bus. If you are on tight budget, from Indore there are two direct buses to Mandu, the first from Gangwal Bus Stand and second from Sarawate Bus Stand. The journey would take around 4/5 hours. Also, you can opt for break journey by bus. There are regular bus service from Indore to Dhar and take another bus from Dhar for Mandu.

Where to stay: Malwa Retreat and Malwa Resort, which are run by the MP Tourism Department and MP Tourism had arranged our stay there. You can also opt for dorm bed at these hotels. However, there are a lot of other hotel options available in Mandu to suit different budgets.
Malwa Resort – Tel (07292) – 263235,
Email:- mresortm@mptourism.com
Malwa Retreat – Tel (07292) – 263221,
Email:- mretreatm@mptourism.com

Eat and Drink:
a) Baobab juice – The baobab tree, mainly found in Africa. It’s other species also found in Arabian Peninsula, and Australia. Baobab tree found plenty in Mandu. The juice made from its fruits is really a must try. Locally it’s known as “Mandu ke Imli”. Do not buy Baobab fruit for your home but you can buy baobab powder that made from the flesh of the baobab fruit. It’s comes 25/30 Rupees per glass.
b) Dal-Paniya and Dal-Bafla – These are two most famous delicacies of Malwa region.

Getting around:
1) Guides: Abhijit Dhar of MP Tourism had provided us a guide for our tour. Although, guides are available for whole sightseeing and also available in the major locations, on the spot. But I would suggest, request for a guide from MP Tourism Dept.
2) Walk: Walk, Walk and Walk there is no alternative way to explore the sites of Mandu. Have to be covered by foot.
3) Bicycle: Can be hired to visit on the cost of 400/500 Rupees per day.
4) Car: You can hire a car, that would come around 3000/3500 and this is easiest and quickest way to visit.

Booking
Madhya Pradesh State Tourism Development Corporation (MPSTDC)
“Chitrakoot” Building
230-A, A.J.C.Bose Road
Room No – 67, 6th Floor
Kolkata – 700020
Phone No – 033-22875855/ 033-22833526

For Booking Information
http://www.mptourism.com
http://www.jalmahotsav.com

Note – My trip to Mandu was a part of a FAM or Familiarization tour.

Special Thanks
Abhijit Dhar, Madhya Pradesh Tourism Development Corporation, Kolkata.
Sumit Surai my fellow FAM participant and friend.
Bodhisatwa Chakraborty, Madhya Pradesh Tourism Development Corporation, Kolkata.
Transport and Support Stuff from MPTDC of Indore and Bhopal Circle.
Mr. Amitava Sengupta – For the edits.

References
1) Mandu – ASI
2) Mandu – A research by Dr. Pushpesh Pant
3) Dhar and Mandu – A Sketch for the Site-Seer By C.E.Luard
4) Dhara Theke Mandu – Debabrata Mukhapadhya
5) Dhar and Mandu – Bombay Subaltern
6) Mandu – A City of Joy by G.Yazdani
7) Imperial Gazetteer of India By James Sutherland Cotton, Sir Richard Burn, Sir William Stevenson Meyer


Copyright © BongBlogger

you can share this post subjects to the conditions that please give due credit to Author Indrajit Das and do not alter before sharing. Request do not Plagiarize.

If you found your photographs here and have issues with that please E-mail me with your requests, I will remove your photographs from public domain.

Wikipedia TTT Conference 2017 in Bangalore

Wikipedia TTT 2017 - Participants Group Photo

TTT 2017 - Participants Group Photo

It’s always been an honor to be officially associated myself with any Wikipedia event. I am really fortunate enough that many times I had been officially associated with Wikipedia events. Not only that, I was also a co-organizer of Wikipedia Takes Kolkata-VI photo walk. It was one-day photo scavenging event, conducted here in Kolkata this year. Wiki is not only special for me, also very close to my heart. So, whenever there is a call from Wikipedia family, my first priority have always been Wiki.

January, this year I came to know about this annual conference, TTT 2017 (Train-The-Trainer) from Tito Dutta of CIS, and that would be held in Bangalore. That was not sufficed but the actual surprise was stored somewhere for me. I had little idea about Wiki TTT because I have already attended mini TTT and mini MWT sessions here in Kolkata this year and same also been organized by Tito along with the help of talented Wikipedian Mourya and Butterfly Ananya. It was a really fabulous moment for me when I received the invitation mail along with the air tickets.

CISA2KTTT17 - Conference Hall at Jayamahal Palace Hotel 01 CISA2KTTT17 - Jayamahal Palace Hotel
Wikipedia TTT 2017 -Here, I would like to tell you about what TTT 2017 (Train-The-Trainer) conference was all about. This would be helpful for you to understand what TTT is? TTT is basically a 3 days residential Wikipedia workshop cum conference to groom leadership skills among the Indian Wikimedia community. It held every year and organized by CIS-A2K. This year it was the fourth edition of it. If I stretch little further, they select two Wikipedians from each Indic language community for participation. It has been organized in Bangalore city from the beginning and the only venue gets changed every year. This edition of TTT was scheduled on 20-22 February 2017, at Jaya Mahal Palace Hotel. More importantly, Tito Dutta, this person from CIS was the responsible person to organize this grand and such a big event this year. Obviously, behind him had a rock solid team.

Day 0/0 – Ibrahim from Bangladesh Wikipedia, reached Kolkata by 19th evening and his flight to Bangalore was on next day morning with me. He had no proper arrangement in Kolkata for his stay. Tito has a beautiful power to convince and manage someone. He managed me somehow and gave me the responsibility to arrange something for Ibrahim. So, I went to Airport to bring him and he stayed at my residence for that night. Although, I took Ibrahim to nearby places to show him some heritages of Kolkata. We became friends before the conference. On 20th early morning, we left Kolkata for Bangalore. At Bangalore Airport I met Dr.Diptangshu Das for the first time. CIS had arranged a car for us and we three clubbed together, reached Jayamahal Palace hotel in the late afternoon. We were late due to a flight delay.

Organizers had arranged an Intro session in the evening at Jayamahal conference room. From the moment I stepped inside the huge conference room, I was extremely nervous to see the hall, full of participants. I was thinking how it would be possible for me to interact with them and how could I managed to take photographs. Being a Wikipedian I must say, it’s truly a tough job to talk in front of Wikipedians. Although, I’ve been into photography since I was a teenager. Since I got my first camera became obsessed with photography. I have a faith that my photography makes people happy and feel emotion. So, I started capturing the moments and as well as participating in all the activities simultaneously. After such a beautiful evening, I came to know from Tito, my passion for photography, made some people annoyed.

CISA2KTTT17 - Sweets 02 CISA2KTTT17 - Sweets 03 CISA2KTTT17 - Tanveer Hassan 01 CISA2KTTT17 - Participants 08

Day 01 – Sharp 9:30 AM, I reached the hall. The first session was introduction followed by icebreaker activities and on my turn, I talked about my Wikipedia projects, also about some future projects. There were many sessions planned for the day but Tito’s on event planning, Ashwin’s Essentials of conducting an event, Manasa and Pavan’s grant structure, Tanveer’s Global metrics and WCI presentation of Dr. Manavpreet were outstanding. I do not mean other sessions were not so good but equally good. Honestly speaking, all the sessions just enriched me. They planned and executed each session so well with hands-on activities that made it so interesting, meaningful and enriching.

CISA2KTTT17 - Participants during Presentation 02 CISA2KTTT17 - Participants 03 CISA2KTTT17 - Participants during Lunch 02 CISA2KTTT17 - Participants during Lunch 03

The interaction with other Wikipedians during Tea Break and Lunch Break and during leisure time after the end of the day one conference were also enriching. Interaction and exchanging ideas, the experience is always good to uplift yourself. But the best part of this conference was we were all from diverse background and that at least helped me so much to widen my thought process. One more thing, before this conference, the organizers told each participant to bring popular sweets of their respective state. It was a wonderful experience and scope to taste sweets from the different states of our country. I ate so much of sweets but what Frederick Noronha brought from Goa was best of the lot apart from sweets of my city.

Day 02 – We started off the second day with a field trip to Cubbon Park. Before I narrate the day, would like to share a small incident. Before we leave for Cubbon Park, Tanveer called me and asked me to change my hotel room. I asked him about the reason for the change but he answered me, it’s a routine process. But this was not the actual reason because I know the reason. I was not at all surprised, It was quite obvious and I was prepared for it. Because I am aware of my snoring habit. My room partner for the day one was Balaji Jagathees and he couldn’t bear my snoring.

CISA2KTTT17 - Participants Boarding the Bus for the Field Trip 01 CISA2KTTT17 - Shyamal Lakshminarayanan talking about Biodiversity 01 CISA2KTTT17 - Participants during Field Trip at Cubbon Park 04 CISA2KTTT17 - Participants during Field Trip at Cubbon Park 03

Although, the bus was ready to move to Cubbon park and we were super excited. This session was on contributing to those article on biodiversity in Wikipedia and it was conducted by Shyamal and Ashwin. But honestly speaking I had no idea about spiders, trees, ants or many more things which were included in this session. Being a nature lover it was a good scope for me to learn about nature but unfortunately, due to lack of knowledge on this subject, I lost interest in this session. I found that many participants left the place and went to see the nearby attraction of Bangalore. Sorry, Shyamal and Ashwin, I like to confess here, I have also gone to see the Vidhana Soudha of Karnataka in the middle of the session. It was fun and very tiring day.

Day 03 – Topics were nitty gritty. The Masterclass III consists of many things, panel discussion on Thematic groups and user groups, Wikipedia Commons by Shyamal, Wikisource by Sumita Roy, Gender Gap Research and Women in Red by Elisa Ting-Yi Chang, WikiProject India in En:WP, Wikipedia Asian Month, 100 Wiki Days, Wiki Loves Food, Village Project, Wikimedia Education Program and Wikimania by Subhashish. etc. There were so many times that I finally was able to understand things that I really wanted to know.

CISA2KTTT17 - Ravishankar Ayyakkannu 01 CISA2KTTT17 - Participants 06 CISA2KTTT17 - Tito Dutta and Sumita Roy Dutta 01 CISA2KTTT17 - Postcards Collage

When the second day came to a close and it was time to leave. I wasn’t sad but felt an overwhelming feeling of support and encouragement from everyone from the participants to organizers. After the dinner, most of them left out and few stayed back to attend MWT2017. I finished my dinner and supposed to follow my own travel plan. I left my laptop and some belongings with Tito, as I had to get back once again to Bangalore. As soon as I walked outside, I sat in the car for a minute… closed my eyes and started thinking of how amazing and exuberant experience it was. The experience that I had been looking forward for years. I took a moment to think about my travel plan to Hampi, this suddenly engrossed me.

CISA2KTTT17 - Mohammad Ibrahim Husain 01 CISA2KTTT17 - Suyash Dwivedi 02 CISA2KTTT17 - Pavan Santosh 01 CISA2KTTT17 - Sailesh Patnaik 01 CISA2KTTT17 - Suresh Khole 02 CISA2KTTT17 - Preeti Chabra 02 CISA2KTTT17 - Nistha Ranjan Dash 01 CISA2KTTT17 - Krishna Chaitanya Velaga 02

It was really special to be in Wikipedia’s conference alongside other Wikipedians from all over the country and Wikipedian from neighboring country. We bonded over those three days. We laughed together, exchange ideas, and even got super real with each other. We supported each other when someone spoke or even argued with them. Sometimes they shared personal stories. Some offered ideas and suggestions when people asked for advice and in fact, I also advised some of them. The most memorable moment for me was when I interviewed by Frederick Noronha regarding my work and it was the first interview of my life. It was really just really outstanding place to be in. I didn’t take pages and pages of notes, all I can say it enriched me in true sense. I had spent many excellent moments or can say that totally makes sense” moments. Light bulbs going off in my head, and firecrackers were exploding with ideas. Now, I think the conference was absolutely necessary for me to grow my Wiki Skills.

Special Thanks – Tito Dutta Thank you so much from the core of my heart,
Sumita Di Thank you so much, you are always ready to help anyone.
Ibrahim missing your smile and thanks for helping me to open my eyes.
Dr.Diptangshu Thank you so much for exchanging some brilliant ideas.
Suyash Dwivedi Thank you so much for exchanging ideas.
Royson, Tanveer, Pavan Santosh, Manasa, Ting-Yi, Fredrick Noronha, Ashwin Baindur, Sailesh Patnaik and Dr. Aarya Joshi.


Copyright © BongBlogger

you can share this post subjects to the conditions that please give due credit to Author Indrajit Das and do not alter before sharing. Request do not Plagiarize.

If you found your photographs here and have issues with that please E-mail me with your requests, I will remove your photographs from public domain.

গরু রচনা – গরু ডাকে, হে হাম্বা হাম্বা হাম্বা

Cow

But people love a hypocrite, you know, they recognize one of their own, and it always feels so good when someone gets caught with his pants down and his dick up and it isn’t you.

― Stephen King

 

গরু রচনা – ছেলেবেলা বা মেয়েবেলা

গরুর চারটে পা, একটা লেজ আর লেজের নিচে একটু কালো কালো চুল, একটা মাথা আর মাথার ওপর দু’টো শিং। গায়ের রঙ সাদা, কালো, সাদার ওপর ছোপ ছোপ ও নানান রঙের হয়। এই অব্দি লিখে ভবো (পাগলা) কাইত। এরপর কি লিখবে বুঝতে পারছেনা বেচারা। হঠাৎ করে মনে পরলো গরু দুধও দেয়। লেখা শুরু হল আবার, গরু দুধ দেয়, আর সেই দুধ খেয়ে লোকের উপকার হয়। এরপর তো রচনা আর এগোচ্ছেনা, ভবোর কলম আটকে গেছে কাটা রেকর্ডের মতো । কি করে? আর কি করে? কিচ্ছু করার নেই তোর। শুধু একটু বড় হতে হবে তোকে হাতে পায়ে। তাহলেই, সাঙ্গ হবে খেলা আর রচনা।

গরু দর্শন

আস্তে আস্তে ভবো একটু বেড়ে উঠতেই, এই রচনারও আকার আকৃতি, প্রকৃতি, প্রকৃত রূপে পরিবর্তনের মুখে। যে গরু তাকে ছেলেবেলায় এতবার ফ্যাঁসাদে ফেলে মজা দেখেছে, সেই আজ তার মায়ের দয়ায় ও শিক্ষায় ভগবান রূপে মর্তে অবতীর্ণ। যিনি মাঝে মাঝে তার বাড়িতে আসেন, বিশেষ রঙধারি এক লোক তার মগজের আলকে আলকিত আজ ভবো।

আসলে, বর্তমানে এতগুলি গরু বলয়ের জন্ম হয়েছে বা আমদানি করা হয়েছে, যা দেখে শরীরের জ্বলন বোধহয় স্বাভাবিক। সেই স্বাভাবিক বৃত্তি আমাকে আজ ভবোর মুখোমুখি এনে দাঁড় করাল। প্রথমে, সে তো মানতেই চাইল না আমি যে হিন্দু ঘরের সন্তান। মুসলিম হলে কাফের, আর হিন্দু হলে মুসলমান বানানো বড্ড সহজ কাজ আজকাল।

আমি ও ক্যালানে আমি

রোজ সকালে আমি আমার বাড়ির কাছে এক পার্কে যাই, দীর্ঘ ২৫-৩০ বছর ধরে হবে। সেই সুত্রেই নানান মানুষের আসা যাওয়া, এক গ্রুপ ভাঙ্গা থেকে শুরু করে নানান গ্রুপের জন্ম মৃত্যু অনেকটাই উপলব্ধি করেছি। কিছু বছর হল এক নতুন গ্রুপের সাথে আমার সকালের ব্যায়াম করার সুবাদে ঘর করা। নানান হাসি, মজা, তর্ক বিতর্ক, বিশেষত রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে দেশ উদ্ধার করা, এই সব কম্ম সকাল সকাল করার অভ্যাস তৈরি হয়েছে। দেশ উদ্ধারকারীদের যে জ্ঞান, তা গরুর চারটে পা, একটা লেজ আর লেজের নিচে একটু কালো কালো চুল পেরিয়ে কোন এক অন্ধকার গলিতে গিয়ে থেমেছে তা বোধহয় আমি বুঝতে পারিনি। তাই আত্মশুদ্ধিকরণের সাথে সাথে কবে যে আমি তাদের কাছে গরুখেকো কাটা মাল হয়ে উঠেছি তা আমার বোঝার বাইরে ছিল। আসলে টেনিয়াদের ভাষায় ‘আকাশে পাখি দেখে পালক গুনে দেবো’ এই কনফিডেন্স যে কতটা আমার জন্য অসত্য ছিল তাও আমি বুঝে উঠতে পারিনি। কোন এক অজ্ঞাত কারণে কয়েক মাস যাবত ঋকবেদ, মনুসংহিতা, বা চরকসংহিতা এই ধরনের প্রাচীন মাল পত্তর ঘাটাঘাটি শুরু করলাম। শুধু কি তাই, রামায়ণ বা মহাভারতের যৌনতা আর হিংস্রতা আমাকে ভাবাতে শুরু করে দিল। এর নানান ছাপ পরতে শুরু করল আমার জীবনে। আর এরই সুত্র ধরে সকালের ব্যায়ামের সাথে সাথে চলতে থাকল এই নিয়ে কথা বার্তা। প্রথম দিকে সবার কথা শুনে যা মনে হল রামায়ণ বা মহাভারতও নাকি বেদ। সে যাই হোক, এই ধরনের মানুষ গুলো প্রথম দিকে খুশি ছিল যে আমি আবার হিন্দু হবার চেষ্টা করছি, কারণ আমি বেদ পড়ছি।

আমি ও বর্তমান বালের সমাজ

গণ্ডগোলটি পাকলো সেদিন, যেদিন আমি, ” গোমাংস এক সময় হিন্দুরা খেত” এবং এক সময় কার্যত বিবেকানন্দও সমর্থন করেছেন এই বক্তব্যটি, সেটি বলাতে । এই শুনেই এক দল বন্ধুর চেহারা আমার কাছে মুহূর্তের মধ্যে ভয়ঙ্কর অচেনা হয়ে গেলো। কথা দিলাম পরের দিন সকালে ঋকবেদ থেকে কিছু শ্লোক তাদেরকে শোনাব যা আমার বক্তব্যকে সমর্থন করে। কথা মতো, তার পরের দিন সকালে নির্দিষ্ট সময় সকলে প্রায় জনা ২৫/৩০ এসে হাজির হল। তাছাড়াও কিছু অচেনা মুখ দেখলাম এদের মধ্যে। এর মধ্যে স্বয়ং সেবকদেরও কিছু কিছু মুখের উকি দেখা গেলো। কথা ছিল প্রথমে ইংলিশে পড়ে তার পর সেটাকে বাংলায় অনুবাদ করে শোনাতে হবে, আর যদি পারি খানিক হিন্দিতে ট্রান্স্‌লেট করে দিলে ভালো হয়। ইংলিশে পড়া শেষ হতে না হতে আমি রোষের আগুনে পরলাম। এই প্রথম হিন্দুদের ফতোয়া দিতে দেখলাম। ফতোয়াটা মনে হল মানুষের ধর্মের ওপর নির্ভর করেনা, ওটা মানুষের অধিকার। ‘কনডোম ব্লগার’ তখন সামাজিক বয়কটের মুখোমুখি। যাকে ধরে ফেলা হল “হিন্দুস্তান কি জয়” এবং “হর হর মহাদেব” বলতেই হবে। না, আমি বলিনি, বলেতেই পারতাম হয়তো, জেদে বললাম না। তাছাড়া, আমার দেশের তিনটে নাম “ইন্ডিয়া”, “ভারত” আর “হিন্দুস্তান”। সত্যি বলতে হিন্দুস্তান আমার দেশের নাম আমি মানিনা। আমার দেশ ভারত এবং আমি ভারতের সন্তান।

সে যাই হোক, ভবোকে আমার সেই সকালের অভিজ্ঞতা শোনালাম। আর, সেদিন যা যা তাদেরকে শুনিয়েছিলাম, সেটাই ভাগ করতে চাইলাম ভবোর সাথে। শুরু করলাম ভবোকে বলা।

ঋকবেদ
Mandala 8/Hymn 43/11
– Let us serve Agni with our hymns, Disposer, fed on ox and cow, Who bears the Soma on his back.

Mandala 8/Hymn 43/17 – My praises, Agni, go to thee, as the Cows seek the stall to meet, The lowing calf that longs for milk.

Mandala 10/Hymn 16/7 – Shield thee with flesh against the flames of Agni, encompass thee about with fat and marrow, So will the Bold One, eager to attack thee with fierce glow fail to girdle and consume thee.

Mandala 10/Hymn 79/6 – Agni, hast thou committed sin or treason among the Gods? In ignorance I ask thee. Playing, not playing, he gold-hued and toothless, hath cut his food up as the knife a victim.

Mandala 10/Hymn85/13 – The bridal pomp of Surya, which Savitar started, moved along.
In Magha days are oxen slain, in Arjuris they wed the bride.

Mandala 10/Hymn 85/14 – When on your three-wheeled chariot, O Asvins, ye came as wooers unto Surya’s bridal, Then all the Gods agreed to your proposal Pusan as Son elected you as Fathers.

Mandala 10/Hymn 87/16 – The fiend who smears himself with flesh of cattle, with flesh of horses and of human bodies, Who steals the milch-cow’s milk away, O Agni,-tear off the heads of such with fiery fury.

Mandala 10/Hymn 87/17 – The cow gives milk each year, O Man-regarder: let not the Yatudhana ever taste it. If one would glut him with the biesting, Agni, pierce with thy flame his vitals as he meets thee.

Mandala 10/Hymn 87/18 – Let the fiends drink the poison of the cattle; may Aditi cast off the evildoers.
May the God Savitar give them up to ruin, and be their share of plants and herbs denied them.

Mandala 10/Hymn 87/19 – Agni, from days of old thou slayest demons: never shall Raksasas in fight o’ercome thee. Burn up the foolish ones, the flesh-devourers: let none of them escape thine heavenly arrow.

Mandala 10/Hymn 89/14 – Where was the vengeful dart when thou, O Indra, clavest the demon ever beat on outrage? When fiends lay there upon the ground extended like cattle in the place of immolation?
মনু সংহিতা
Chapter V – 18 – The porcupine, the hedgehog, the iguana, the rhinoceros, the tortoise, and the hare they declare to be eatable; likewise those (domestic animals) that have teeth in one jaw only, excepting camels.

Chapter V – 30 – The eater who daily even devours those destined to be his food, commits no sin; for the creator himself created both the eaters and those who are to be eaten (for those special purposes).

Chapter V – 35 – But a man who, being duly engaged (to officiate or to dine at a sacred rite), refuses to eat meat, becomes after death an animal during twenty-one existences.

যুক্তিহীন চুলকানি

মাঝে মাঝেই, ওর মধ্যে চরম উত্তেজনা ও আমার প্রতি রাগ দেখতে পেলাম। এত সহজে ওকে পড়ে শোনাতে পারিনি, অবশেষে সবটুকু পড়ে শোনাতে পেরেছিলাম অবশ্য। ও মুখ খুলল, ‘পারবেন কোরান নিয়ে কোন কথা বলতে?‘ ‘দম থাকলে লিখে দেখান, ক্ষমতা থাকলে তিন তালাক নিয়ে মুখ খুলুন‘ মেরে মুসলিমরা গাঁড় ফাটিয়ে দেবে। ওকে বললাম, হিন্দু ধর্মের যে জায়গা গুলো ছুঁয়ে গেলাম এর অনেক পরে ইসলামের জন্ম। আর সত্যি বলতে, কোরাণ যে আসমানি কিতাব নয়, তা যেকোন শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ বোঝে বা জানে। প্রচুর কিছু শুদ্ধিকরণের পর বিশেষ বিশেষ টেক্সট্‌ বা প্রচুর কিছু অ্যাডপ্ট করা হয়েছে এই ধর্মে। যেমন আমরা খেতাম, ছেড়ে দিয়েছি। অনেক পরে ওরা জন্ম নিয়েছে, ওরা খাওয়া শুরু করেছে। আর একটা কথা “নিকাহ্‌” দেখে ভাই সব কিছু বুঝতে বা জানতে যেও না। গরু থেকে শুয়োর হতে পারতো? গরু থেকে কি ভাবে তিন তালাকে আসতে পারে? এবার ওর আরেক প্রশ্ন “পারবেন কোন মুসলিমকে শুয়োর খাওয়াতে? অনেক প্রগতিশীল মুসলমান আমার দেখা আছে”। সত্যি বলতে, পারবো না। আসলে, যতটুকু আমার জানা আছে, শুধু ইসলামে নয় খ্রিষ্টধর্মেও ২-৩ জায়গায় শুয়োর খাবার কথা বারন করা আছে। কিন্তু অনেক খ্রিস্টান কিন্তু শুয়োর খায়, আমি জানি, মুসলমানরা কিন্তু খায়না। অন্তত আমার দেখা কোন মুসলমানকে আমি শুয়োর বা পর্ক খেতে দেখিনি। কারণ হিসাবে আধুনিক বা তথাকথিত প্রগতিশীল মুসলমানেরা যে বিজ্ঞান সম্মত কারণ, যেমন ফিতা ক্রিমি বা নানান রোগের কথা শুয়োর খাবার ফলে হতে পারে বলে, অন্তত তা আসল কারণ নয় বলে আমার মনে হয়। আসল কারণ ওই “হারাম” হয়ে থেকে যায়। অন্তত, যা আমি নিজে উপলব্ধি করেছি সাধারণ ভাবে হালাল ছাড়া মাংস না খাওয়া বা ধর্মীয় গোঁড়ামি অনেকটাই বেশি বলে আমার মনে হয়। ঠিক যেমন ক্রিস্টান হলে গরম কালেও স্যুট পরতেই হবে এবং বাঙ্গালির সাথে কথা বললেও তাকে ইংরেজিতেই কথা কইতেই হবে আরকি।

তিন তালাক

বিয়ে হলে তবেইতো তালাক হবে, তাই তো? তাই একটু বিয়ে দিয়ে ঢুকে তালাক দিয়ে বেড়িয়ে যাবো। আসলে, হিন্দুদের বিবাহ হল ঐশ্বরিক ঘটনা আর নিকাহ্‌ বা মুসলিম বিয়ের ভিত্তি হল এক ধরনের চুক্তি বর ও বউয়ের মধ্যে। যে চুক্তিটিকে নিকাহ্‌নামা বলা হয়, যার মধ্যে অনেক শর্ত থাকে। অনেকটা, আগে বাঙ্গালদের (হিন্দু) মধ্যে “পাটিপত্র” বলে একটা ব্যবস্থা চালু ছিল, খানিকটা এই ধাঁচের বলা যেতে পারে। যাইহোক, নিকাহ্‌নামা তে একটি বিষয় বাধ্যতামূলক, তা হল, “মেহের্‌” যা বর বউকে দিয়ে তবেই সে মেয়েটিকে বিয়ে করতে পারবে। বৌ যদি চায় তবে তা ছেড়ে দিতেও পারে(সাধারনত তা হয়না)। কোরাণ অনুযায়ী বা নবীর নির্দেশ মতো বিবাহ বিচ্ছেদ কে বলা হয় “তালাক-ই-সুন্নাহ্‌“। আরেক ধরনের তালাক যা নবীর অনেক পরে ইসলামে অ্যাডপ্ট করা হয়েছে তা হল “তালাক-ই-বিদ্দাহ্‌” যার মানে হলে সঙ্গেসঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ। এই তালাক ফোনে বা এসএমএস করে বিবাহ বিচ্ছেদ করা যায়। এই তালাকেরই বিরোধিতা করা হচ্ছে এবং তালাক-ই-সুন্নাহ্‌ কে লাঘু করার দাবী উঠেছে। কিন্তু সাধারণ ভাবে মানুষ ভাবে তালাক-ই-বিদ্দাহ্‌ অর্থাৎ সঙ্গে সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদই ইসলামে আছে। এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারনা। যদি আপনি তালাক-ই-সুন্নাহ্‌ কি জানেন তাহলে বুঝতে পারবেন, ইসলামে একজন বিবাহিত মহিলা কতটা নিরাপদ।

তাই এবার তালাক-ই-সুন্নাহ্‌ নিয়ে আমার যা জানা তা আপনাদের বলি। নবীর নির্দেশ বা মতে, রেগে গিয়ে তালাক দেয়া যাবেনা। কোরাণ বলে, প্রথম পর্যায় – বর ও বৌ এর মধ্যে কথা বলে সমস্যার সমাধান করতে হবে, একে বলা হয় “ফাইযু-হুন্নাহ্‌“। যদি তারপরেও সমস্যা না মেটে, দ্বিতীয় পর্যায় – তবে, দুজনের মধ্যে নানান যে দাম্পত্য সম্পর্ক তার থেকে বিরত থাকতে হবে, যতক্ষণ না সব কিছু মিটমাট হয়ে যায়। তারমানে, দুজন শারীরিক ভাবে আলাদা আলাদা থাকবে, এটা করা হয় এই জন্য যাতে তারা আবার এক হয়, একে বলা হয় “ওয়াহ্‌জুরু-হুন্নাহ্‌“। যদি এই পর্যায়েও সফল ভাবে সম্পর্ক পুনরায় জোড়া না লাগে, তৃতীয় পর্যায় – তবে, বরকে উদ্যোগ নিয়ে তার স্ত্রী কে মানাতে হবে বা তার সাথে পুনরায় সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করতে হবে, একে বলা হয় “ওয়াযরিবু-হুন্নাহ্‌“। যদি তিনটি পর্যায়েও সম্পর্ক ঠিক না হয়, তবে সালিসি সভা, অর্থাৎ দুটি পরিবার থেকে গুরুজনেরা বসে তা মেটাবার চেষ্টা করবে। এই চারটে পর্যায়েও যদি সম্পর্ক কিছুতেই ঠিক না হয়, তবে বর একবার তালাক বলবে। আরেকটি তালাক বলার আগে বরকে বউয়ের ঋতু বা ইদ্দাহ্‌ শেষ হওয়া অব্দি অপেক্ষা করতে হবে। এই ইদ্দাহ্‌ (মনে রাখতে হবে ইসলাম অনুযায়ী ইদ্দাহ্‌ তিন মাসিক কোর্স বলে মনে করা হয়) এর আগে দু’টির বেশি তালাক দেয়া যাবেনা। তার মানে এই তিন মাসের মধ্যে বর তৃতীয় তালাকটি বলতে পারবেনা। এখানে মনে রাখতে হবে, যদি স্ত্রী এমন বয়সে থাকে যেখানে তার রজোবন্ধ হয়েছে তবে, অর্থাৎ ইদ্দাহ্‌ এর সময় তিন মাস। আর যদি স্ত্রী গর্ভবতী হয় তাহলে, যতক্ষণ না তার সন্তান জন্মাচ্ছে ইদ্দাহ্‌ সময়কাল ততদিন পর্যন্ত। এর পরেও যদি বর ও বৌ এর মধ্যে সমস্যা থেকে যায়, তবে বর তৃতীয় তালাক বলতে পারে। এই ক্ষেত্রে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যাবে।

(শালা) হারাম ও শুয়োরের কথা

আগেই বলেছি ইসলামে এবং খ্রিষ্টধর্মেও শুয়োর খাওয়া মানা। যা নিষিদ্ধ তাকেই ইসলাম অনুযায়ী “হারাম” বলে চিহ্নিত করা হয়। এখান আমি বাইবেল থেকে শুয়োর সম্পর্কিত কিছু তথ্য উদ্ধৃতি দিলাম।

Bible – Book of Leviticus chapter 11 verse 7
New International Version
And the pig, though it has a divided hoof, does not chew the cud; it is unclean for you.

King James Bible
And the swine, though he divide the hoof, and be cloven footed, yet he cheweth not the cud; he is unclean to you.

Bible – Book of Leviticus chapter 11 verse 8

New International Version
You must not eat their meat or touch their carcasses; they are unclean for you.

King James Bible
Of their flesh shall ye not eat, and their carcasses shall ye not touch; they are unclean to you.

Bible – Book of Deuteronomy chapter 14 verse 8

New International Version
The pig is also unclean; although it has a divided hoof, it does not chew the cud. You are not to eat their meat or touch their carcasses.

King James Bible
And the swine, because it divideth the hoof, yet cheweth not the cud, it is unclean unto you: ye shall not eat of their flesh, nor touch their dead carcase.

Bible – Book of Isaiah Chapter 65 verse 2-5
King James Version
2 – I have spread out my hands all the day unto a rebellious people, which walketh in a way that was not good, after their own thoughts;

3 – A people that provoketh me to anger continually to my face; that sacrificeth in gardens, and burneth incense upon altars of brick;

4 – Which remain among the graves, and lodge in the monuments, which eat swine’s flesh, and broth of abominable things is in their vessels;

5 – Which say, Stand by thyself, come not near to me; for I am holier than thou. These are a smoke in my nose, a fire that burneth all the day.

বঞ্চিত-বাঞ্চোত

এবার একটি বঞ্চিত বাঞ্চোতের কথা না বললে আমার মুক্তি নেই বা লেখাটি শেষ করা অন্যায় হবে। এখন যে শর্মার কথা বলব তার বাবা ও মা ময়ূর ছিল এবং তাদের সন্তান তাই গরু হয়ে জন্মেছে। আমি সেই দুই ময়ূরের কথা বলছি যারা সেক্স করেনি। যাদের চোখের জল থেকে জন্ম নিয়েছে “চাঁদের” মতন শর্মা কিন্তু জাত গরু। তাই তিনি গরু হয়ে যা সামাজিক, আধ্যাত্মিক বা বৈজ্ঞ্যানিক চেতনার কথা শোনালেন যা শুনে সমগ্র গরু জাতি গর্বিত এবং অবশ্যই গর্ভবতীও হয়ে উঠেছে।

শুধু কি তাই, ৩৩ কোটি দেব-দেবী ওনার দেহে বাস করে (কতো বড় দেহ রে তোর?)। ওনারটা কি বক্র, খুদ্র, শিঘ্রপতন হয় কি? না, একেবারেই না, বরং ওনার ওখান দিয়ে যা বেরোয় মানে মুত, তা যদি আপনি কোল্ড ড্রিঙ্কের মতন পান করেন তাহলে আপনার লিভার (জনি লিভার নয়), হার্ট, মন এবং আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যাবে। শুধু কি তাই, আপনি বুড়ো হবেন না। তাহলে ডঃ লোধকে দেখাবার প্রয়োজন মিটে গেলো। এখানে মুত খাবেন আগের জন্মের পাপ পোঁদ দিয়ে বেড়িয়ে যাবে। কোন এক রাশিয়ান বিজ্ঞানী (এটা রাশিয়ার কোন বঞ্চিত, নাম বলেনি) ওনার কানে কানে বলে গেছেন, ওনার হাগা মানে গোবর বাড়ির দেয়ালে লাগালে মানে ভালো করে গাতন দিলে রেডিয়েশন (কোন ধরনের রেডিয়েশন বলতে ভুলে গেছে) থেকে মুক্তি। ওনার হাগা এখানেই থেমে নেই, টন টন বায়োগ্যাস উৎপাদন করে কোটি কোটি গাছের প্রাণ বাঁচাতে পারে (আমার একখান প্রশ্ন, হাগা পেলে উনি চেপে চেপে কোটি কোটি গাছের গোঁড়ায় গিয়ে গিয়ে কি হেগে আসবেন?)। উনি হাক পারলে মানে হাম্বা হাম্বা করলে বায়ুর কি সব যেন মরে যায়। আপনার বাড়িতে কেউ যদি শ্বাসকষ্টে ভোগে, যদি অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়? চিন্তা করবেন না ওনার কাছে নিয়ে যেতে পারেন উনি অক্সিজেন পান করেন আবার অক্সিজেন ছাড়েন। তাই একটি নল ওনার কোথাও লাগিয়ে টানলেই হবে।

কবি প্রনাম

আমার সর্বশেষ নিবেদন, এক বিখ্যাত মানুষের লেখা দু লাইন দিয়ে। ক্ষমা করবেন তার নাম না মনে পরায় লিখতে পারলাম না এটি কার লেখা।

হরে করো কমবা
গরু ডাকে হামবা।
গর্জন করে অম্বা,
মা ডাকেন বুম্বা।
হরে করো কমবা
ডোব্বা ডোব্বা রোব্বা,
হুড় হুড় করে হুম্বা,
তোবা তোবা আব্বা।

উৎস –
১) The Rig Veda – Ralph T.H. Griffith
২) The Laws of Manu – George Bühler
৩) http://biblehub.com
৪) The Emphasised Bible, translated by Joseph Bryant Rotherham, 1916
৫) কোরান
৬) wright-house অনলাইন কোরাণ।
৭) The Bible, the Qur’an and Science by Maurice Bucaille (Author), Alistair D. Pannell (Translator)
8) Triple Talaq: An Analytical Study By Furqan Ahmad


পুনশ্চঃ
– যাদের অদৃশ্য উপকার ছাড়া লেখাটা হয়তো সম্ভব হতোনা তারা হলেন ত্বিষা মুখার্জি সরকারপ্রসাদ বিশ্বাস বা মন মাস্তুল। অসংখ্য ধন্যবাদ দু’জনকে।

স্বত্ব © বংব্লগার আপনার যদি মনে হয় বা ইচ্ছা হয় তাহলে আপনি এই লেখাটি শেয়ার করতে পারেন কিন্তু দয়াকরে এর লেখকের নাম ইন্দ্রজিৎ দাস উল্লেখ করতে ভুলবেন না। ভুলে যাবেননা চৌর্যবৃত্তি মহাদায়, যদি পড়েন ধরা।

যদি আপনি আপনার নিজের ছবি এখানে দেখতে পান এবং তাতে যদি আপনার কোন রকম আপত্তি থাকে তাহলে অবশ্যই ই-মেল করে আপনি উপযুক্ত প্রমাণসহ আপনার দাবি জানাতে পারেন।দাবিটি ন্যায্য প্রমাণিত হলে, সে ক্ষেত্রে ছবিটি সরিয়ে ফেলা হবে।

কাশ্মীরনামাঃ অমরনাথ – এক অধার্মিকের তীর্থ যাত্রা

Amarnath Holy Cave in Amarnath, Jammu and Kashmir, India

অমরনাথ যাত্রা” আর আমি!!! অনেকটা “বুক ভরা চুল দিলি আর মাথা জোরা টাক দিলি” টাইপের। অমরনাথটা কপালে ছিল তাই হয়েগেছে। আমি বিগত কয়েক বছর ধরে ট্রেকিং করছি, যার ফলে অমরনাথ যাত্রা টাও ঐ চিন্তাভাবনা নিয়েই গেছিলাম। আমি তো পেশাদার ট্র্যাভেলার নই, তবুও বহু জায়গায় ঘোরার সৌভাগ্য হয়েছে। অনেক জায়গায় ঘুরলেও, এই ট্যুরটার স্মৃতি আমার জীবনে অন্যতম সেরা স্মৃতি হয়ে আজীবন থেকে যাবে। শুরুর দিকটা খুব এলোমেলো ছিল। মানে যাওয়া হবে, কি হবে না, এই যাচ্ছি, তো ঐ যাচ্ছি না। প্রথমেই একটু বলি, ফিটনেস-সার্টিফিকেট এর আবেদন বাতিল হওয়াতে মনটা বেশ খারাপ হয়ে গেলেও আমি কিন্তু হাল ছাড়িনি। যাওয়ার দু’দিন আগে পরলাম জ্বরে।

শুরুটা একটু বলা যাক, প্রতিদিনের মতো আমি সেদিনও মাঠে গেছিলাম দৌড়াতে। হঠাৎ, মধু এসে আমাকে অমরনাথ যাত্রার কথা বলে। আসলে, ওর সাথে ভাস্করের যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু কিছু ব্যাক্তিগত কাজের জন্য এবার ওর সাথে যেতে পারবেনা। তাই, ওর একজন সঙ্গী লাগবে, তাই ওর আমাকে এই প্রস্তাব।সেই সময় আমি মধু কে চিনতামও খুব কম, তাছাড়া আমার মত নাস্তিকের ধর্মস্থান ভ্রমণ ঠিক মানায় না তাই ওকে Me and Madhu during Amarnath Yatra 2016, Jammu and Kashmir, Indiaসরাসরি নাই করে দিলাম। আর ওই সময় আমার অমরনাথ যাত্রা সম্পর্কে যা জ্ঞান ছিল তাতে মনে হয়েছিল যে, এই যাত্রা টা শুধুমাত্র ধর্মীয় যাত্রা। হয়তো সেই সময় আমার এই ধারনাটা ভুল ছিল। আসলে আমার এইটুকু জানা ছিল যে, এটা মাত্র তিনদিনের ট্রেক রুট, আর তাই সেই সময় এত কম দিনের ট্রেক করার আমার কোন ইচ্ছে ছিলনা। আমার তখন মাথায় ছিল বেশ বড় একটা ট্রেক করব। অবশেষে মধু আমাকে মানিয়েই নিল, আর আমরা যাত্রার প্রস্তুতি শুরু করলাম ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে। আমি যাবো শুনে, যারা আমাকে চিনত, তারা বলা শুরু করল, আমার অমরনাথ যাত্রার সম্মতি প্রমাণ করে যে, আমার মধ্যে নাকি একটা সুপ্ত ধর্মীয় চরিত্র লুকিয়ে আছে। তারা কি ভেবে এই কথা গুলো বলছিল জানিনা, কারণ তারা খুব ভাল করে আমায় চেনে একজন অধার্মিক মানুষ হিসেবেই। কিন্তু এটার মানে এই নয় যে, আমি আমার ধর্ম কে ঘৃণা বা কোনরকম ভাবে অশ্রদ্ধা করি। শুধু এইটুকু বলতে পারি পৃথিবীতে যতগুলো ধর্মের অস্তিত্ব আছে আমি তাদের সবকটাকেই সম্মান করি। এখন, আমি তাদেরকে বলতে চাই, আমি কিন্তু একেবারেই ধার্মিক হয়ে উঠিনি যাত্রার শেষে। হ্যাঁ, এটাও সত্যি, জীবন কে দেখার দৃষ্টিভঙ্গির খানিক পরিবর্তন হয়েছে। কারণ, আমি যাত্রার সময় বিশ্বাসের এক নতুন সংজ্ঞার সন্ধান পেয়েছি, এবং নতুনভাবে আবিষ্কার করেছি, বিশ্বাস এবং সত্যের সংজ্ঞা।

Unnamed Waterfall during Amarnath Yatra 2016, Jammu and Kashmir, India Amarnath Yatra 2016, Jammu and Kashmir, India Amarnath Yatra 2016, Jammu and Kashmir, India On the way to Sangam during Amarnath Yatra 2016, Jammu and Kashmir, India

আবার ফিরে আসা যাক আমার অমরনাথ যাত্রার অভিজ্ঞতা নিয়ে, কিন্তু সেটা বলার আগে অমরনাথ মন্দিরের ইতিহাস আপনাদের সঙ্গে একটু ভাগ করে নিতে চাই। সত্যি বলতে অমরনাথ মন্দিরের ইতিহাস বর্ণনা না করলে নিজেকেও খানিকটা অসম্পূর্ণ লাগে। হ্যাঁ, আমার এই অসম্পূর্ণতাটা অনেকের বিরক্তির কারণও হয়ে দাড়াতে পারে, কথা দিলাম খুব অল্প ইতিহাসই বলব, ঠিক যতটা না বললেই নয়।

অমরনাথের গুহা – অমরনাথ হিন্দুদের এক অতি পবিত্র ধর্মীয়স্থান । পাথরের ভাঁজ থেকে চুয়ে চুয়ে পরা জল বরফ হয়ে প্রাকৃতিক ভাবে এক ঐশ্বরিক শিবলিঙ্গের জন্ম দেয়। প্রতিবছর এই শিবলিঙ্গের জন্ম হয় এবং এটি হিন্দু ধর্মের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। মে থেকে অগাস্ট মাসের মধ্যে পাথর থেকে জল আস্তে আস্তে চুইয়ে চুইয়ে পরতে থাকে আর সেটি জমে যাবার পর শিবলিঙ্গের রূপ নেয়। এই গুহার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও আছে, ভগবান শিব এখানেই জীবনের সত্য উন্মচন করেন, ও অমরত্বের সন্ধান পান যা তিনি তাঁর ঐশ্বরিক সঙ্গিনী দক্ষিয়ানি (যিনি পরবর্তী কালে পার্বতী বা মা দুর্গা নামে পরিচিত) সতীকে বর্ণনা করেন। অমরনাথ একান্ন শক্তিপীঠের অন্যতম, তাই হিন্দুধর্মে এর গুরুত্ব অপরিসীম।

পৌরাণিক দিক – কথিত আছে, জীবনের সত্য ও অমরত্বের উন্মোচন করতে দেবাদিদেব শিব অমরনাথের গুহা কে বেছে নিয়েছিলেন। তিনি দেবী পার্বতীকে নিজের সঙ্গিনী হিসেবে বেছে নেন। তিনি যখন গুহায় গিয়েছিলেন, তিনি পহল্‌গাম, চন্দনওয়ারির রাস্তা দিয়ে গিয়েছিলেন। যাত্রাকালে মহাদেব এক এক করে তাঁর সমস্তটাই ত্যাগ করেছিলেন। সর্বপ্রথমে তাঁর বাহন নন্দী কে পহল্‌গামে ত্যাগ করেন, এরপর ত্যাগ করেন তাঁর শিরে পরিধেয় অর্ধচন্দ্রটি কে। শেষনাগে পৌঁছে তিনি ত্যাগ করেন তাঁর শ্রেষ্ঠ অলঙ্কার ও প্রিয়সঙ্গী বাসুকিকে। যদি কেউ পুন্যগুহার উল্টোদিকের পর্বতশিখরটি খেয়াল করেন দেখবেন সেটি অবিকল সাপের ফণার আঁকারের। এখনও বহু মানুষ বিশ্বাস করেন, বাসুকি এখনও সেখানেই দাঁড়িয়ে আছেন। যখন তিনি মহাগুনা (মহা গনেশ পর্বত) শিখরে পৌঁছান, তখন তিনি তাঁর পুত্র গনেশ কে ত্যাগ করেন। পঞ্চতরণী পৌঁছে ত্যাগ করেন পৃথিবী, বায়ু, অগ্নি, জল, আকাশ, যা মহান আত্মাহুতির প্রতীক।

অমরনাথ গুহার আবিষ্কার – বিশ্বাস করা হয় যে, প্রাচীনকালে কাশ্মীর উপত্যকা ছিল জলের তলায়। কাশ্যপমুনি সেই জল নানান নদীর ধারার জন্ম দিয়ে নিষ্কাশিত করেন। যখন সম্পূর্ণ জল কাশ্মীর উপত্যকা থেকে সরে যায় তখন, ঋষি ভৃগু, প্রথম মানুষ যিনি অমরনাথ গুহায় বাবার দর্শন করেন। হিন্দুপুরাণ অনুযায়ী এটি ছিল অমরনাথ গুহার আবিষ্কারের কারণ। সাধারণ মানুষের মুখে এই গুহার আবিষ্কার নিয়ে আরেকটি কথার প্রচলন আছে, পঞ্চদশ শতাব্দীতে, এক মেষপালক (গুজ্জ্যার বুটা মালিক) এই গুহাটি আবিষ্কার করেন।

আমার অমরনাথ যাত্রা ২০১৬ -এর পাতা থেকে

ভূমিকা – ২৩শে জুন আমি জ্বরে পরলাম, এত জ্বর যে আমি নিজে থেকেই যাবনা বলে ঠিক করলাম, আমার এই যাওয়া নিয়ে বাড়িতে একপ্রস্থ নাটক হল। অবশেষে আমার স্ত্রী আমাকে ঠিক রাজি করে ফেলল যাবার জন্য। প্রথমেই অসংখ্য ধন্যবাদ আমার স্ত্রীকে, তাঁর চেষ্টা আর অনুপ্রেরণা ছাড়া আমার পক্ষে এই যাত্রাটি সম্ভব হতনা। যাবার একদিন আগে টিভির খবর থেকে জানতে পারলাম ভারতীয় সেনা এবং আতঙ্কবাদীদের মধ্যে বেশ গুলিবর্ষণ হয়েছে, এই শুনে আমার গোটা পরিবার খুব চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পরল। এইরকম পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও ২৫শে জুন ২০১৬, আমরা অমরনাথের উদ্দ্যেশ্যে রওনা দিলাম কলকাতা থেকে। খুব স্বাভাবিক ভাবেই আমার সফরসঙ্গী মধু।আমাদের মধ্যে আগেথেকেই ঠিক করা ছিল অমরনাথ যাত্রার পর আমরা দুজন আলাদা আলাদা ভাবে ট্র্যাভেল করব। মধু চারধাম যাত্রা করবে আর আমি আমার প্ল্যান অনুযায়ী ট্র্যাভেল করব। মধু হল অত্যন্ত ধর্মভীরু মানুষ আর আমি তাঁর ঠিক উল্টো। এত অমিল থাকা সত্ত্বেও আমাদের মধ্যে একটি অদ্ভুত রসায়নের জন্ম নিয়েছিল। ওর নানান কীর্তিকলাপ আমাকে বেশ আনন্দ দিয়েছে। আর এটাও খুব সত্যি যে, পুরো যাত্রায় ও আমাকে অসম্ভভ সাহায্য করেছে। যদি ও আমার সঙ্গে না থাকত, তাহলে অমরনাথ যাত্রার নির্দিষ্ট দিনের আগে অমরনাথ যাত্রা করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিলনা। সে যাইহোক, ২৭শে জুন প্রায় সন্ধ্যে হবে এমন সময় আমরা জম্মু গিয়ে পৌঁছলাম। ট্রেনটি প্রায় তিনঘণ্টা দেরিতে ঢুকেছিল। সেইদিনটা স্টেশনের পাশেই বৈষ্ণবধামের ডরমেটরিতে কাটিয়ে দিলাম। সন্ধ্যেবেলা মধু লাঙ্গারের কিছু কাগজপত্র নিয়ে বসল, যে লাঙ্গারের সঙ্গে ও সম্পর্কযুক্ত। আমিও যতটা পারলাম ওকে কাজে সাহায্য করলাম। সেই রাতে আমি ঘুমতে পারলামনা ওর কিছু অদ্ভুত কাজকর্মের জন্য। এখন অবশ্য বুঝি ওটা খুব একটা অদ্ভুত ছিলনা, হঠাৎ করে সেই রাতে ও হনুমানচালিসা পড়তে শুরু করল, শুধু কি তাই!!! ওঁ নম শিবায়, জয় ভোলে কি, ব্যোম ব্যোম ভোলে আরও কত কিছু সব। সেদিন ওই ডরমেটরিতে যারা যারা ছিল তারাও দেখি ওই মধুর মতই শুরু করল। মনে মনে বললাম, ঘাটের মড়ারা আমায় শুতে দে। পাগল হয়েগেছিলাম সেই রাতে, কিন্তু একটাও রা কাটিনি মুখ দিয়ে।

Chandanwari during Amarnath Yatra 2016, Jammu and Kashmir, India

প্রথম দিন – ২৮শে জুন ২০১৬

ঠিক জানা নেই কাশ্মীরে কাক ডাকে কিনা…তবুও কাকডাকা ভোরে এক কাপ গরম চা খেয়ে বেড়িয়ে পরলাম। জম্মু স্টেশন থেকে ৫/৬ কিমি দূরে জম্মু বাস স্ট্যান্ডে পৌঁছলাম। সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে রওনা দিলাম পহেলগাঁও এর উদ্দ্যেশে।দুপুর একটা নাগাদ গাড়ির ড্রাইভার পাহাড়ের কোন এক অজানা জায়গায় গাড়ি থামাল দুপুরের খাবারের জন্য। মধু খাবেনা বলে বেঁকে বসলো, কারণ হিসেবে বলল হোটেলের সব কর্মচারী ও রাধুনিরা মুসলিম। ওর যুক্তি অনুযায়ী অমরনাথ যাত্রার আগে এমন কিছু ও করবেনা যেটা হিন্দু ধর্মের ………। এরকম নানান যুক্তি যেগুলো আমার কাছে মূল্যহীন, তাই খাঁড়া করল।ওর এই জ্ঞান ও যুক্তি কোনটাই আমার হজম হলনা উল্টে খানিকটা খারাপই লাগলো। আসলে আমাদের দুজনেরই খিদে পেয়েছিল, আর আমি নিজেকে যতদূর চিনি, যেকোনো পরিস্থিতিতেই আমি ট্র্যাভেল করতে পারি, কিন্তু ও পারেনা। আমি অনেক চেষ্টা করলাম বোঝাবার যাতে ওখানেই খেয়ে নেয়, কিন্তু কিছুতেই ও শুনলনা উপরন্তু আরেকটি যুক্তি খাঁড়া করল আমি গরুর মাংস খাই মুসলমানের মত, মানে ওর ভাষায় ‘গরুখেকো’ তাই আমার পক্ষে ওর অনুভুতি বোঝা অসম্ভব। অগত্যা কোন উপায় না দেখে গাড়ির ড্রাইভার কে গিয়ে আমি অনুরোধ করলাম যে কোন একটি ‘ঠিকঠাক’ বা অরিজিনাল আদর্শ হিন্দু হোটেলে গাড়ি দাড় করাতে। শুনে সে মুচকি হাসল। শেষ বিকেলে গিয়ে পৌঁছলাম পহেলগাঁওতে। এখানে বলে রাখা ভাল পহেলগাঁও কিন্তু মেষপালকদের গ্রাম এবং অমরনাথ যাত্রার বেসক্যাম্পও বটে। আবার ওখান থেকে গাড়ি ধরলাম, উদ্দ্যেশ্য চন্দনওয়ারি। খানিক রাত হল পৌঁছতে।

খানিকটা দূর হাঁটার পর আমরা আমাদের গন্তব্য আমাদের লাঙ্গার বা ভান্ডারায় গিয়ে পৌঁছলাম। ওখানে সবাই আমাদের খুব উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাল। সেখানে সবাই আমাদের বিশেষত আমার অচেনা হলেও তারা আমাদেরকে দেখেই অত্যন্ত খুশি হল, এখানেই আমার সঙ্গে প্রথম কমলনাথ জি, অশোকজি এবং প্রধান জির সঙ্গে পরিচয় হল। কিছুক্ষন তাদের সঙ্গে কথা বলার পর সহজ হয়ে গেলাম। আসলে যে জায়গাটি তে আমরা গিয়ে পৌঁছলাম সেটি লাঙ্গারের গুদামঘর। অর্থাৎ সেই সংস্থার লাঙ্গার ততদিনে শেষনাগে তৈরি হয়ে গেছে। তাই আমাদের দুজনকেই শেষনাগ পৌঁছতে হবে এবং তীর্থযাত্রীদের সেবা বা লাঙ্গারের অন্যান্য কাজ করতে হবে। সেদিন রাতেই জানা গেল আমাদের লাঙ্গারের পরিচয়পত্রে কিছু সমস্যা রয়েছে এবং তারজন্য তারপরদিন সকালবেলা আমাদেরকে শ্রীনগরের অমরনাথজি স্রাইনবোর্ডে যেতে হবে। সেইরাত টা বেশ নিশ্চিন্তে ঘুমিয়েছিলাম কিন্তু খানিকটা ‘জয় ভোলে আর হনুমানচালিসা’ শোনার পর।

BongBlogger during Amarnath Yatra 2016, Jammu and Kashmir, India

দ্বিতীয় দিন – ২৯শে জুন ২০১৬

বেশ ভোরে আমার ঘুম ভাঙল সেদিন, দেখলাম সবাই ঘুমিয়ে তখনও। জুতো পরলাম আর বেরিয়ে পরলাম হাঁটতে। ওই ভোরে কাশ্মীরের প্রকৃতি যেন অপরূপা, বুঝলাম সত্যি কাশ্মীর পৃথিবীর স্বর্গ। ক্যাম্পে ফিরে দেখলাম সবাই জেগে গেছে ততক্ষণে। এককাপ চায়ের সঙ্গে সকালের খাবারটা সেরে নিলাম। ভানডারার কাজের সুবিধার জন্য তাদের নিজস্ব একটি গাড়ি আছে এবং সেই গাড়িটি বাইরে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিল, আগেই বলেছিলাম আমাদের স্রাইনবোর্ডে কাজে যেতে হবে তাই আমি, মধু, অশোক জি এবং পণ্ডিত জি বেরিয়ে পরলাম শ্রীনগরের উদ্দ্যেশে। ১১ টা নাগাদ গিয়ে পৌঁছলাম শ্রীনগরে আর কাজ শেষ হল প্রায় ৩ টে নাগাদ। গতরাতে আমি পণ্ডিত জিকে আমার ট্র্যাভেল প্ল্যান টা বলেছিলাম তাই উনি জানেন আমার লিস্টে অবন্তিপুরা আছে, উনি ঠিক করলেন আমরা চন্দনওয়ারি পৌঁছব অবন্তিপুরা হয়ে। হঠাৎ এই কথাটা শোনার পর আমি বেশ খুশি হয়ে গেলাম, যাইহোক অবন্তিপুরার মন্দির দেখে আমার মন ভোরে গেছিল। অবশ্য আমাকে আরও একবার অবন্তিপুরায় আসতে হয়েছিল, কিন্তু সে গল্প আরেকদিন বলা যাবে।

BongBlogger during Amarnath Yatra 2016, Jammu and Kashmir, India Indian Army at Pissu Top during Amarnath Yatra 2016, Jammu and Kashmir, India

তৃতীয় দিন – ৩০শে জুন ২০১৬

খুব স্বাভাবিক নিয়মেই খুব ভোরেই আমি উঠেগেছিলাম সেদিন। সকালে সামান্য কিছু খেয়ে অবশেষে আমরা হোলি কেভ বা পুন্যগুহার দিকে যাত্রা শুরু করলাম চন্দনওয়ারি থেকে, তখন প্রায় সকাল সাতটা। একটু বলেনি , এটা কিন্তু মধুর পঞ্চমযাত্রা অমরনাথের উদ্দ্যেশে, আর আমার প্রথম যাত্রা। প্রথম দিকটায় ও একটু ঘাগু ট্রেকারের মত কেত নিচ্ছিল, কিন্তু আমি আমার ধৈর্যটা ধরে রাখছিলাম, কারণ আমি সবসময় ট্রেকিং -এর কৌশলগত দিকগুলো মাথায় রেখে ট্রেক করি আর কখনই হাঁটার সময় লোক দেখানো কায়দা করিনা। সবসময় মাথায় রাখি, হেঁটে প্রথমে গেলেই তার জন্য না কোন পুরস্কার পাব, না আমার কোন অফিসের তারা আছে, তাই আমি কখনো তাড়াহুড়ো করিনা। পিসটপের রাস্তা টা সামান্য খাঁড়াই, এবং এখানে শুধুমাত্র ওপরেই উঠতে থাকতে হবে, তাই সাধারণের জন্য এটা একটু কঠিন হতে পারে কিন্তু যারা ট্রেকিং করে তাদের জন্য খুব কঠিন হবেনা। তবে এটাও ঠিক যদি কেউ একটি গড়গতি তে ও আস্তে আস্তে হাঁটে তাহলে এই রাস্তাও সহজ হয়ে যাবে। হঠাৎ করে মধু সর্টকার্ট দিয়ে ওপরে উঠতে গিয়ে ডানহাতের কব্জিতে পেলো ব্যাথা। এরপর আর কিছু হোক না হোক মধু লাইনে চলে এলো। পিসুটপ্‌ অব্দি ভারতীয় সেনাবাহিনী কে দেখলাম বেশ সজাগ। অবশ্য অমরনাথের পুরো রাস্তাটাতেই সেনাবাহিনী সজাগ ছিল। কখনো কখনো হঠাৎ করেই মালবহনকারী খচ্চরের দল বেশ বিপদে ফেলছিল হাঁটতে, শুধু কি তাই!! সারা রাস্তায় ছড়িয়ে থাকা ওদের গোবরও বিপদে ফেলছিল হাঁটতে। দু’ঘণ্টা হাঁটার পর অবশেষে আমরা গিয়ে পৌঁছলাম পিসুটপে। পিসুটপের নৈস্বর্গিক দৃশ্য দেখে পথে হাঁটার অসম্ভব কষ্টটাই গেলাম ভুলে, সত্যি বলতে, নিজের চোখে না দেখলে প্রকৃতি কত সুন্দর হতে পারে তা লিখে বোঝানো বড্ড কঠিন। পায়ের নিচে সবুজ আর বরফে ঢাকা পর্বতের চূড়া আমার চোখকে বেশ খানিকক্ষণ ব্যাস্ত রাখল, অবশেষে কিছুটা সময় জিরিয়ে নিয়ে পিসুটপকে বিদায় জানিয়ে হাঁটা শুরু করলাম শেষনাগের উদ্দ্যেশে।

Pissu Top during Amarnath Yatra 2016, Jammu and Kashmir, India Indian Army and Madhu during Amarnath Yatra 2016, Jammu and Kashmir, India

প্রায় দুটো, গিয়ে পৌঁছলাম শেষনাগে। শেষনাগের নিল সরোবর দেখে এত অভিভূত হলাম যে লোভ না সামলাতে পেরে খানিকটা নিচে নেমে সরোবরের ধারে গিয়ে বসলাম। হাতের মুঠোয় নিল সরোবর আর সামনে বরফে ঢাকা পাহাড় চুড়াগুলো কিছুক্ষনের মধ্যেই আমার সমস্ত ক্লান্তি দুর করে দিল। ওখানে খানিকক্ষণ বসে থাকার ফলে, শরীরটা এতটাই শিথিল হয়ে গেল যে, উঠে আবার হাঁটতে শুরু করাটা বেশ কঠিন লাগল। কোন উপায়ও ছিলনা কারণ ওখান থেকে আমরা যে লাঙ্গারে যাবো তার দুরত্ত্ব প্রায় ১ কিমি,তাই আরও ১ কিমি হাঁটতেই হবে। বেশ কিছুটা হাঁটার পর অবশেষে গিয়ে পৌঁছলাম লাঙ্গারে। সবাই যথারীতি আমাদেরকে খুব উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাল। এখানেই আমার সঙ্গে প্রথম দেখা হল গোর্খা জির। চা বিস্কিট খাওয়ার পরে ওদের সঙ্গে গল্প জমে গেল। কিন্তু গোর্খা জি বারবার বলতে শুরু করলেন দুপুরের খাবারটা সেরে নিতে। অগত্যা তাড়াহুড়ো করে পরিষ্কার হয়ে নিয়ে দুপুরের খাওয়া সারলাম। কিছুক্ষন পর হাঁতে ক্যামেরা নিয়ে বেরিয়ে পরলাম। আসলে নেচার ফটোগ্রাফি করার লোভেই আমার এই বেরিয়ে পরা। এই যাত্রার ঠিক আগেই এটা নিয়ে মধুর কাছে অনেক কথা শুনেছি, যেমন, খুব কঠিন রাস্তা, যখন তখন বৃষ্টি শুরু হয়ে যেতে পারে, আর অধিকাংশ রাস্তাই খুব ভারি বরফে ঢাকা থাকবে এবং Acute Mountain Sickness ও হতে পারে। ওই তালিকায় আরও অনেক গল্প ছিল যা সাধারণ মানুষকে ভয় পাইয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু কোথায় বরফ, কোথায় কম অক্সিজেন এর চাপ আর কোথায়বা ভয়ঙ্কর রাস্তা!!!! এটা শুনেই মধু একটু বিষণ্ণ গলায় বলল “অপেক্ষা করো, সব দেখতে পাবে”, উত্তরে আমিও বললাম “বেশ দেখাই যাবে”… চোখে পরল মধু প্রায় ডজন খানেক ওষুধ খেলো, শরীরের নানান ব্যাথা ও নানা রোগের জন্য। আমাকেও অনুরোধ করল ওষুধ খাবার জন্য যাতে আগে থেকেই অতিরিক্ত সতর্ক হওয়া যায়। আমি তো দিব্য সুস্থ ছিলাম তাই ওকে না করেদিলাম। সেই রাতটা আমরা শেষনাগেই কাটালাম।

Sheshnag Lake during Amarnath Yatra 2016, Jammu and Kashmir, India Sheshnag Lake during Amarnath Yatra 2016, Jammu and Kashmir, India Sheshnag during Amarnath Yatra 2016, Jammu and Kashmir, India Sheshnag during Amarnath Yatra 2016, Jammu and Kashmir, India

Langars at Sheshnag during Amarnath Yatra 2016, Jammu and Kashmir, IndiaInside our Langar at Sheshnag during Amarnath Yatra 2016, Jammu and Kashmir, India

চতুর্থ দিন – ১লা জুলাই ২০১৬

এই দিনটাই ছিল আমাদের শেষদিন অমরনাথের গুহায় পৌঁছোবার, তাই সকাল সকাল উঠে পরলাম। সামান্য কিছু খেয়ে সকাল সাতটায় বেরিয়ে পরলাম গুহার উদ্যেশে। পথে সেরকম তীর্থযাত্রী পেলামনা, তার কারণ অবশ্য আপনাদের আগেই বলেছি যে, আমরা তীর্থযাত্রা শুরু হওয়ার ঘোষিত দিনের কিছু আগেই যাত্রা শুরু করেছিলাম। আমি শুনেছিলাম দর্শনের মরশুমে এই রাস্তায় পা ফেলার জায়গা থাকেনা এত ভিড় হয়, এর ফলে তীর্থযাত্রীদের ওই পাহাড়ি পথে হাঁটা সত্যি দুষ্কর হয়ে যায়। এখানেই প্রথম খানিকটা রস্তায় বরফ পেলাম। আমার অবশ্য এর আগে স্নো ট্রেকিঙের অভিজ্ঞতা ছিল, তাই আমার পক্ষে খুব একটা কঠিন হলনা। মহাগুনা টপ্‌ অব্দি রাস্তাটা বেশ খাঁড়াই ছিল এবং এটা প্রায় চৌদ্দ হাজার ফিট ওপরে অবস্থিত। এটাই হল অমরনাথ যাত্রার পুরো রাস্তার সবথেকে উঁচু জায়গা। আমরা কিছু নামহীন স্রোত, নামহীন কিছু ঝর্না পেরলাম। প্রায় বারোটা বেজে গেল মহাগুনা টপ্‌ পৌঁছতে। ওখানে কিছুক্ষণ জিরিয়ে নিয়ে বেরিয়ে পরলাম পঞ্চতরণীর উদ্দ্যেশে। চন্দনওয়ারি থেকে মহাগুনা টপ্‌ অব্দি পুরো রাস্তাটাই ছিল চড়াই। এবার আমাদের উতরাই এর পালা, প্রায় চৌদ্দ হাজার ফিট থেকে নামতে হবে বারো হাজারে, কারণ পঞ্চতরণী বারো হাজার ফিটে অবস্থিত। এখানে একটা কথা বলে নেয়া ভাল সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা ভুল ধারনা আছে উতরাই চড়াই এর থেকে সোজা। ধারনাটি ভুল।

Mahaguna Top during Amarnath Yatra 2016, Jammu and Kashmir, India Crossing Rivulet during Amarnath Yatra 2016, Jammu and Kashmir, India Mahaguna Top during Amarnath Yatra 2016, Jammu and Kashmir, India Mahaguna Top during Amarnath Yatra 2016, Jammu and Kashmir, India

বিকেল তিনটের পর ভারতীয় সেনা পঞ্চতরণীর মিলিটারি চেকপোস্ট কাউকে পেরতে দেয়না। তাই আগে থেকেই আমরা ঠিক করেছিলাম যে, যেভাবেই হোক তিনটের আগে আমাদেরকে পঞ্চতরণী পৌঁছতেই হবে। ভাগ্যক্রমে তিনটের অনেক আগেই আমরা পৌঁছে গেছিলাম। হাতে খানিক সময় থাকাতে পঞ্চতরণী ঘুরে দেখতে পেলাম এবং অবশ্যই ছবিও তুললাম। ওখানেই আমি খানিকটা চেষ্টা করলাম মাচোই গ্লেসিয়ার যেটা মাত্র সাত কিমি দূরে এবং কোলাহোই গ্লেসিয়ার যা এগারো কিমি দূরে অবস্থিত তাদের স্থাননির্দেশ করার। কিন্তু কিছুই হাতে এলনা।

Panchtarni during Amarnath Yatra 2016, Jammu and Kashmir, India Valley of Panchtarni during Amarnath Yatra 2016, Jammu and Kashmir, India

পঞ্চতরণী পাঁচটি নদির সঙ্গমস্থলে অবস্থিত। এটা বিশ্বাস করা হয় যে এই পাঁচ নদির উৎস হল শিবের জটা এবং তাই এই জায়গার নাম হয়েছে পঞ্চতরণী। সাধারণত তীর্থযাত্রীরা পঞ্চতরণীতে রাত কাটায় এবং পরদিন সকালে গুহার উদ্দ্যেশে রওনা দেয়। কিন্তু আমাদের অন্য পরিকল্পনা ছিল তাই আমরা সেই দিনই গুহার উদ্দ্যেশে হাঁটা শুরু করেছিলাম। অবশেষে বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ আমরা অমরনাথ গুহার সামনে পৌঁছলাম। সেখানেই একটি তাঁবু ভাড়া নিয়ে রাতটুকু কাটালাম। এখানে তাঁবুর ভাড়া মাথাপিছ ১৫০ টাকা ভাড়া।

পঞ্চম দিন – ২রা জুলাই ২০১৬

অনেক ভোরে ঘুম ভাঙল, তখনও আকাশ কালো। আর মধু গভীর ঘুমে। আকাশ কালো হলে হবে কি, সাদা বরফের চাদরের জন্য চারদিক যেন আলো হয়ে আছে। সকালে তাঁবুর মালিক এক বালতি গরম জল দিয়ে গেল মধুর স্নানের জন্য, তার জন্য দাম অবশ্য নিল ৬০ টি টাকা। ওই বরফজমা ঠাণ্ডায় আমার স্নান করার কোন রুচি, ভালবাসা, ইচ্ছে কোনটাই ছিলনা। মধু অবশ্য আমাকে স্নান করার জন্য খুব জোরাজুরি করল, কারণ দর্শনের আগে স্নান করাটা নাকি খুব জরুরি। ওকে বললাম “গতরাতে ভগবান শিবের সঙ্গে আমার ফোনে কথা হয়েছে এবং শিব আমাকে বলেছেন ততক্ষণ অব্দি স্নান না করতে যতক্ষণ না আমি নিরাপদে হোটেলে পৌঁছই”, আমি তো মজা করছিলাম, কিন্তু হঠাৎ দেখলাম মধু গম্ভীর হয়ে গেল। স্নান করে ফিরে এসে ও আমায় বলল দর্শন শেষ না হবার আগে অব্দি আমি যেন ওকে না ছুঁই এবং ওর থেকে যেন একটু দুরত্ব বজায় রাখি। আমার তো এটা শুনে মনে হল আমার ওপর ফতোয়া জারি হয়েছে। আমার গায়ের নোংরা জামাকাপড় নিয়েও ওর সমস্যা ছিল। আমি বুদ্ধি করে ওটা ম্যানেজ করলাম। যাইহোক আমাদের তাঁবুর গায়ে লাগোয়া দোকান থেকে প্রসাদ কিনলাম যদিও প্রসাদ বিক্রেতা মুসলমান। শুধু কি তাই!!!!! ওখানে যত প্রসাদের দোকান আছে সেখানকার সব দোকানী মুসলমানই। চারদিকে এবং খানিকটা আমার গায়ে গঙ্গাজল ছিটিয়ে মধু পুন্যগুহার উদ্দ্যেশে রওনা দিল।

Amarnath Base Camp during Amarnath Yatra 2016, Jammu and Kashmir, India

গুহার সামনে গিয়ে যখন পৌঁছলাম দেখি দর্শন কিছুক্ষনের জন্য বন্ধ আছে, কারণ ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী রাজনাথ সিং সেই সময় দর্শন করছিলেন। ভারতীয় সেনারা সেই সময় গুহার প্রধান প্রবেশদ্বার ঘিরে দাঁড়িয়েছিল। আমরা এবং বাকি সবাই প্রায় দু’ঘণ্টা বাইরে দাঁড়িয়েছিলাম। আমাদের তাঁবু থেকে এক/ দু’কিমি দূরে ছিল প্রবেশদ্বার, তারপরেও ৫০/৬০ টা সিঁড়ি চড়ে পৌঁছতে হবে বরফের লিঙ্গের সামনে। হঠাৎ করে মধুর মধ্যে অদ্ভুত একটা পরিবর্তন দেখলাম, দেখে মনে হল যেন আমি আমার শাশুড়িকে ওর মধ্যে দেখছি। যাইহোক, আমি একা একাই গুহায় গিয়ে পৌঁছেছিলাম শেষপর্যন্ত, এবং প্রথমবার বরফের লিঙ্গ দেখেছিলাম। যে পুরোহিত বরফের লিঙ্গের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি খুব শক্ত করে আমার হাতটা চেপে ধরলেন, এবং বললেন ” ভালো করে দর্শন কর” প্রায় দু থেকে তিন মিনিট আমার হাতটা এত শক্ত করে উনি ধরেছিলেন যে আমি ওখান থেকে সরেও যেতে পারছিলামনা। ওনার এই আচরণে আমি যার-পর-নাই অবাক হয়েছিলাম।

ওখানে প্রায় ঘণ্টাখানেক সময় কাটালাম এবং মানুষের চোখেমুখে অদ্ভুত এক বিশ্বাস লক্ষ্য করলাম। এছাড়াও আরও অনেক কিছুই লক্ষ্য করলাম, যেমন, ডিএসএলআর ক্যামেরা দিয়ে লিঙ্গের ছবি তোলা এবং ছেলে ছোকরাদের লিঙ্গের সঙ্গে সেলফি তুলতেও দেখলাম। (মনে মনে গুনগুণ করলাম “চল বেটা সেলফি লে লে রে/ মাস্তি কি ট্যাঙ্কীমে তানিক ডুবকি লে লে রে” ) ঠিক বুঝে উঠতে পারলামনা এরা কি করে এত অত্যাধুনিক যন্ত্রাংশ নিয়ে দাঁড়িয়েথাকা ভারতীয় সেনাবাহিনীকে বোকা বানাল ( ক্ষমতা ? হুম্‌ম্‌ম্‌ম্‌ম্‌ম্‌…টাকা? হুম্‌ম্‌ম্‌…)। এক কোণে মধুকে আবিষ্কার করলাম, দেখলাম ও বিভিন্ন ধর্মানুষ্ঠানে ব্যাস্ত। ওর সব শেষ হবার পরে আমরা আবার একসাথে হলাম। প্রথমেই ও জানতে চাইল আমার কেমন অভিজ্ঞতা হল। উত্তরে আমি জানালাম “অসাধারণ”। ও পুরোহিতের মত মাথা নাড়তে নাড়তে হাসতে লাগলো। আমার একটু মনটা খারাপই হয়েগেছিল মিলিটারির ব্যবহারে, একটা সামান্য ছোট ক্যামেরা নিয়ে আমাকে ঢুকতে দেয়নি, অথচ কত লোক ডিএসএলআর নিয়ে ঢুকে গেছে। যথেষ্ট বলেছি, এটা নিয়ে আর কিছু বলতে চাইনা।

On the Way to Baltal during Amarnath Yatra 2016, Jammu and Kashmir, India

আমরা তাঁবুতে ফিরে এলাম এবং খানিকক্ষণ বিশ্রাম নিলাম। এবার ওর (মধুর) সময় অভিজ্ঞ মন্তব্য করার। যদিও কোন মন্তব্য করলনা তবে কোন কারণ ছাড়াই ও বেশ বাঁকা হাসি হাসছিল। যাইহোক, আমি উতরাই এর কথা ভেবে একটু শরীরচর্চায় মন দিলাম। দুপুর একটা নাগাদ অবশেষে আমরা বালতালের উদ্দ্যেশে রওনা দিলাম এবং সন্ধ্যে সাড়ে ছ’টা নাগাদ বালতালে (সেকেন্ড মাইল) পৌঁছলাম। আমার জানা ছিলনা যে ওখান থেকেও আরও দু/তিন কিমি হাঁটলে বালতাল বাসস্ট্যান্ড গিয়ে পৌঁছব। এরমধ্যে হঠাৎ করে শুরুহল বৃষ্টি, এবং আমরা একটি লাঙ্গারে গিয়ে আশ্রয় নিলাম। অবশেষে রাত আঁটটা নাগাদ বালতাল বাসস্ট্যান্ড গিয়ে পৌঁছলাম। গিয়ে দেখি গাড়ি বন্ধ, আর আমাদের ঐ দিনই শ্রীনগরে ফিরে আসার পরিকল্পনা ছিল। কোন উপায় নেই, তাই সেই দিনটা থাকতে হবে বালতালে, তাই সেইরাতটা বালতালের এক তাঁবুতে থেকে গেলাম।

Kali Mata Temple during Amarnath Yatra 2016, Jammu and Kashmir, India Amarnath Yatra 2016, Jammu and Kashmir, India Amarnath Yatra 2016, Jammu and Kashmir, India Aerial View of Baltal Base Camp during Amarnath Yatra 2016, Jammu and Kashmir, India Baltal at Night during Amarnath Yatra 2016, Jammu and Kashmir, India

 

কি করবেন আর কি করবেন না

1. শরীরচর্চা করুন বিশেষত দম বাড়াবার ব্যায়াম, অন্তত যাত্রার একমাস আগে থেকে।
2. সঠিক গরম জামাকাপড় নেবেন।
3. বর্ষাতি নেবেন (ওপর এবং নিচের)।
4. সঠিক জুতো নেবেন (ট্রেকিং করার জন্য উপযুক্ত জুতো)
5. হাঁটার জন্য ট্রেকিঙের জন্য ব্যবহৃত স্টিক।
6. একটা সচিত্র পরিচয়পত্র।
7. পরিমানমত ট্রেল মিক্স, চকলেট, ক্যান্ডি এবং জলের বোতল।
8. প্রয়োজনীয় ওষুধ।
9. কোল্ড ক্রিম ও লিপ বাম্‌।
10. পরিমানমত জল খাবেন হাঁটার সময়। অন্তত দু থেকে চার লিটার জল খান প্রতিদিন, এতে উচ্চতাজনিত অসুস্থতা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
11. চড়াই এর সময় ভিড়ের জন্য পথ আটকে থাকতে পারে তাই সৌজন্য দেখিয়ে অন্যকে পথ ছেড়ে দিন।
দয়া করে অমরনাথ যাত্রার প্রশাসকদের নিয়মাবলি মেনে চলুন।

সম্পূর্ণ তালিকা দেখার জন্য এখানে
1. ট্রেকিঙের সময় জিন্সের প্যান্ট পরবেন না।
2. ট্রেকিঙের আগে ও পরে ধূমপান করবেন না।
3. চটি পরে হাঁটবেন না।
4. প্লাস্টিকের তৈরি প্যাকেট, বোতল যেখানে সেখানে ফেলবেন না।
5. কোনরকম নেশার দ্রব্য বিশেষত গাঁজা ব্যবহার করবেন না।
6. মাথায় রাখবেন হাঁটার সময় তাড়াহুড়ো করবেন না, কারণ আগে গেলে আপনার জন্য কোন পুরস্কার নেই। নিজের শরীরের ওপর অযথা চাপ দেবেন না, এরফলে কিন্তু উচ্চতাজনিত অসুস্থতা হতে পারে।

আমার অমরনাথ যাত্রা ২০১৬ এর সম্পূর্ণ অ্যালবাম দেখুন

Holy Cave of Amarnath during Amarnath Yatra 2016, Jammu and Kashmir, India

 

বিশেষ কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ- মধুসূদন, অশোক জি এবং প্রধান জি। বাংলা তর্জমা ও টাইপিং এ সাহায্য করার জন্য পঞ্চতপা কে ধন্যবাদ।

 

স্বত্ব © বংব্লগার আপনার যদি মনে হয় বা ইচ্ছা হয় তাহলে আপনি এই লেখাটি শেয়ার করতে পারেন কিন্তু দয়াকরে এর লেখকের নাম ইন্দ্রজিৎ দাস উল্লেখ করতে ভুলবেন না। ভুলে যাবেননা চৌর্যবৃত্তি মহাদায়, যদি পড়েন ধরা।যদি আপনি আপনার নিজের ছবি এখানে দেখতে পান এবং তাতে যদি আপনার কোন রকম আপত্তি থাকে তাহলে অবশ্যই ই-মেল করে আপনি উপযুক্ত প্রমাণসহ আপনার দাবি জানাতে পারেন।দাবিটি ন্যায্য প্রমাণিত হলে, সে ক্ষেত্রে ছবিটি সরিয়ে ফেলা হবে।

Jal Mahotsav : A Cocktail of Adventure and Luxurious Comfort

Jal Mahotsav in Hanuwantiya Tourist Complex in Khandwa, Madhya Pradesh.

Jal Mahotsav“, Carnival of Water an excellent initiative of Madhya Pradesh State Tourism Development Corporation (MPSTDC) to stretching the horizon of tourism in Madhya Pradesh. This festival has been organized in Hanuwantiya, which is situated on the bank of Indira Sagar Dam and this is the second edition of it. Madhya Pradesh Tourism has developed the Hanuwantiya Tourist Complex and other nearby River Islands for preferred Sports Tourism Destination. This 30 days program is still going on in “Hanuwantiya Tourist Complex” in Khandwa District.

The most interesting part of it, the MP tourism designed “Jal Mahotsav” so well, that will attract tourists from any age group because there are loads of activities specially designed for different age group. This mega event can be a paradise for the young couple, honeymoon couple, friends, parents, kids, adventure lovers, and nature lovers. Even this place would be the best for business summits and organizing marriage party. Madhya Pradesh is attracting tourists across the globe with it’s Heritage, Culture, Handicrafts, Wildlife, Leisure and destinations like Bandhavgarh, Pachmarhi, Kanha, Gwalior, Khajuraho, Baghcave, Bhimbhetka, Sanchi, Omkareshwar, Jabalpur extremely popular among other. But Jal Mahotsav providing a different dimension for Water, Land and Air Adventures to Cruise and River Island Tourism in a single Eco-friendly area.

Let’s start the virtual journey.

Jal Mahotsav - Aerial View of Tents in Hanuwantiya, Khandwa, Madhyapradesh, India.

Hanuwantiya Tourist Complex
Hanuwantiya Tourist Complex situated at the bank of Indira Sagar consists of tourist cottages, amusement park, water activity station.

Hanuwantiya Tourist Complex

Hanuwantiya Tourist Complex

Houseboat and Cruising

Jal Mahotsav - Houseboat and Cruising in Hanuwantiya, Khandwa, Madhyapradesh, India.

Jal Mahotsav - Houseboat and Cruising in Hanuwantiya, Khandwa, Madhyapradesh, India.

Entry – INR 10
Booking – Contact MPTDC for booking cottage inside the complex. See the end of this post for booking information.

Luxury Tents
Luxury tents for accommodation are available in the Jal Mahotsav complex. Also contained conference tent and dinning tents.

Jal Mahotsav - Luxurios Tents in Hanuwantiya, Khandwa, Madhyapradesh, India.

Jal Mahotsav - Interiors of Luxurios Tent in Hanuwantiya, Khandwa, Madhyapradesh, India.

Jal Mahotsav - Interiors of Luxurios Tent in Hanuwantiya, Khandwa, Madhyapradesh, India.

Jal Mahotsav - Aerial View of Tents in Hanuwantiya, Khandwa, Madhyapradesh, India.

Jal Mahotsav - Luxurios Tents in Hanuwantiya, Khandwa, Madhyapradesh, India.

Glimpses of Activities

Air Activities

Jal Mahotsav - Para Motors in Hanuwantiya, Khandwa, Madhyapradesh, India.

Jal Mahotsav - Hot Air Baloon in Hanuwantiya, Khandwa, Madhyapradesh, India.

Water Activities

Jal Mahotsav - Jet Ski in Hanuwantiya, Khandwa, Madhyapradesh, India.

Jal Mahotsav - Jet Ski in Hanuwantiya, Khandwa, Madhyapradesh, India.

Jal Mahotsav - Water Boat in Hanuwantiya, Khandwa, Madhyapradesh, India.

Artificial Climbing
Jal Mahotsav - Artificial Climbing in Hanuwantiya, Khandwa, Madhyapradesh, India.

Night Activities – Cultural Programs
Jal Mahotsav - Night Activities Cultural Program in Hanuwantiya, Khandwa, Madhyapradesh, India.

Jal Mahotsav - Night Activities Cultural Program in Hanuwantiya, Khandwa, Madhyapradesh, India.

Jal Mahotsav - Stage for Cultural Program in Hanuwantiya, Khandwa, Madhyapradesh, India.

Facilities
Jal Mahotsav - Cycles in Hanuwantiya, Khandwa, Madhyapradesh, India.

Jal Mahotsav - Golf Cart in Hanuwantiya, Khandwa, Madhyapradesh, India.

Food Park
Jal Mahotsav - Food Park in Hanuwantiya, Khandwa, Madhyapradesh, India.

Jal Mahotsav - Food Park in Hanuwantiya, Khandwa, Madhyapradesh, India.

Jal Mahotsav - Food Park in Hanuwantiya, Khandwa, Madhyapradesh, India.

Jal Mahotsav - Food Park in Hanuwantiya, Khandwa, Madhyapradesh, India.

Jal Mahotsav - Food Park in Hanuwantiya, Khandwa, Madhyapradesh, India.Jal Mahotsav - Food Park in Hanuwantiya, Khandwa, Madhyapradesh, India.

Craft Market
Jal Mahotsav - Craft Market in Hanuwantiya, Khandwa, Madhyapradesh, India.

Jal Mahotsav - Craft Market in Hanuwantiya, Khandwa, Madhyapradesh, India.

Jal Mahotsav - Craft Market in Hanuwantiya, Khandwa, Madhyapradesh, India.

Jal Mahotsav - Craft Market in Hanuwantiya, Khandwa, Madhyapradesh, India.

Jal Mahotsav - Craft Market in Hanuwantiya, Khandwa, Madhyapradesh, India.

Bullock Cart Ride
Jal Mahotsav - Bullock Cart Ride in Hanuwantiya, Khandwa, Madhyapradesh, India.

Spa
Jal Mahotsav - Salon Spa in Hanuwantiya, Khandwa, Madhyapradesh, India.

Jal Mahotsav Date
15 th Dec 2016 to 15th Jan 2017

How to Reach Hanuwantiya
Airport – Nearest Airport is Indore (130KM), Bhopal (330KM)
Rail-head – Nearest Railway station is Khandwa (45KM) and Indore (130KM)
Road – Indore via Mundi to Hanuwantiya is 130KM and Bhopal via Khandwa is 280KM.

Packages and Rent of Tent
Jal Mahotsav - Packages and Rent of Tent in Hanuwantiya, Khandwa, Madhyapradesh, India.

Rate List of Adventure Sports
Jal Mahotsav - Rate List of Adventure activities of Tent in Hanuwantiya, Khandwa, Madhyapradesh, India.

Cashless Mahotsav
Don’t think about paying in cash. Jal Mahotsav can be enjoyed cashless, use “Jal Mahotsav’s” cash card.

Jal Mahotsav - Cash Card for Cashless in Hanuwantiya, Khandwa, Madhyapradesh, India.

Booking
Madhya Pradesh State Tourism Development Corporation (MPSTDC)
“Chitrakoot” Building
230-A, A.J.C.Bose Road
Room No – 67, 6th Floor
Kolkata – 700020
Phone No – 033-22875855/ 033-22833526

For Booking Information
http://www.mptourism.com
http://www.jalmahotsav.com

Note – My trip to Jal Mahotsav was a part of a FAM or Familiarization tour.

Special Thanks
Abhijit Dhar, Madhya Pradesh Tourism Development Corporation, Kolkata.
Sumit Surai my fellow FAM participant and friend.
Bodhisatwa Chakraborty, Madhya Pradesh Tourism Development Corporation, Kolkata.
Transport and Support Stuff from MPTDC of Indore and Bhopal Circle deployed for Jal Mahotsav.

Copyright © BongBlogger
you can share this post subjects to the conditions that please give due credit to Author Indrajit Das and do not alter before sharing. Request do not Plagiarize.

If you found your photographs here and have issues with that please E-mail me with your requests, I will remove your photographs from public domain.

West Bengal Wiki Community’s Participation in Wikipedia Loves Monuments Project

Wikipedia Loves Monuments 2016

Wikipedia Loves Monuments 2016 in West Bengal Community
Wikipedia Loves Monuments” one month long photography contest cum Photo drive has been organized by Wikipedia in the month of September 2016, internationally, to photograph those monuments world wide whose photos are not present in the Wiki repository. Like other countries, Wikipedia India Chapter also took part in this grand project. Wikipedian Santanu Chandra informed us about WLM project in a monthly meeting of Wikipedia WB community and unanimously agreed upon to participate in this grand event.

The main focus of the project was to photographed those monuments, whose photos are not present in the Wikipedia repository and also to encourage for creating new articles from captured photographs. In community meeting it has been decided, Sumit Surai would select the place and as well as prepare the list of monuments of that place to be photographed for WLM. In the process of selection, he would have to consider those monuments whose photos are not present in Wiki’s ‘List of Monuments of National Importance in West Bengal’ and as well in the ‘List of State Protected Monuments in West Bengal’. On the next Wikipedia meeting, he placed his proposal for the monuments of Burdwan and Ambika Kalna along with a detailed itinerary. Initially, we decided to visit there with a large group of Wikipedian photographers but unfortunately due to some internal technical issues we had to postponed the plan. Finally, a small group has been formed consists of five person including me and the date of journey was finalized as on 24th September 2016 for WLM.

Day 1
Just one day before the journey, I informed Sumit about my eye infection and told him that I might not join them. But he insisted and as usual I got convinced. On early morning of 24th I reached Howrah by 6:45am and Sumit joined me after few minutes. Both of us waiting for Santanu Da, Sujay and Kalyan and by that time I started photographing the surrounding areas of Howrah station. They reached Howrah in time and joined us. Although, I, Kalyan, Sumit, Santanu Da and Sujay finally boarded a local train at 8am for Ambika Kalna. We reached there around 10am and according to our plan we went to Raj Bari temple Complex at first. In the afternoon, a new Wikipedian from Burdwan Prithwish Jash joined us. During the day, rain and low light every so often spoiled some of our plans. Although, we managed to take photograph of almost all major temples in Kalna. It was also in our agenda to capture maximum number of Terracotta panels of every individual temple. Finally, we have succeeded to some extent to capture maximum number of Terracotta panels with limited resources and time. Here is the list of temples, we photographed on the first day.

Rameswar Temple
Rameswar Temple - During Wiki Loves Monuments 2016, Kalna, West Bengal India
Lalji Temple
Lalji Temple - During Wiki Loves Monuments 2016, Kalna, West Bengal India
Krishna Chandraji Temple
Krishna Chandraji Temple - During Wiki Loves Monuments 2016, Kalna, West Bengal India
Girigobordhon
Girigobordhon - During Wiki Loves Monuments 2016, Kalna, West Bengal India
Pancharatna Temple
Pancharatna Temple - During Wiki Loves Monuments 2016, Kalna, West Bengal India
Rashmancha
Rashmancha - During Wiki Loves Monuments 2016, Kalna, West Bengal India
Ratneswar Temple
Ratneswar Temple - During Wiki Loves Monuments 2016, Kalna, West Bengal India
Rupeswar Temple
Rupeswar Temple - During Wiki Loves Monuments 2016, Kalna, West Bengal India
Jaleswar Temple
Jaleswar Temple - During Wiki Loves Monuments 2016, Kalna, West Bengal India
Pratapeswar Siva Temple
Pratapeswar Siva Temple - During Wiki Loves Monuments 2016, Kalna, West Bengal India

Stretching Horizon – Wiki Outreach
I and Sumit, always keep in mind to do some offline work for Wikipedia that may not bring instant or immediate result but somehow will help in future. That’s why both of us were in search for information of lesser known heritages of the district Burdwan. Also, in search for new involvement or contributors from local scholars. In between, Sumit collected the phone number of a local Historian Sidheswar Achariyya. At the late evening of that day I called him for fixing up a meeting with him. Initially, he refused to meet us because he was suffering due to old age issues. Fortunately, I managed to convince him and fixed a meeting with him on the next day at 9am at his residence. He is working with the history of Burdwan district especially Kalna over a long period of time and also one of the founder member of Kalna Mahakuma Itihas O Puratattwa Charcha Kendra. He wrote many books on the history of Kalna. It was in my mind that he would be a helpful source for future for developing existing and creating new unique articles for Bengali Wikipedia.

Day 2
All woke by 6am and left the guest house early to photograph Nava-Kailasha Temple. We spend some time there and went to Gopalji Temple. We had fixed a meeting with Sidheswar Achariyya and accordingly went to his place after Gopalji Temple. In between, a small incident happened just after we left Gopalji Temple and on the way to Sidheswar Achariyya’s house. Basically, my presence is enough for …………. and disaster is inevitable. Quite naturally I made a disaster that day. We hired a Toto (Toto is a 3 wheeler battery operated vehicle) and suddenly, a wish was popup in my mind to drive the Toto. Initial 1 or 2 minutes of driving was okay but suddenly I loose control over the vehicle. Even the driver could not control the vehicle as well and we hit the wall of a house. This has broken the front wheel axle of the Toto and also damaged the main water supply pipeline of the house. Although, managed well and I had to pay an amount from my personal account for the sin. This incident made me serious for the time being. Now, I would love to tell, I am not really very sorry or ashamed what I have done that day because this incident made our tour memorable. Even I have named the incident as “Bordhomane Barabari” or “Kalnai Kelo”.

Glimpses of Meeting
WLM Team with Sidheswar Achariyya - During Wiki Loves Monuments 2016, Kalna, West Bengal India
Sidheswar Achariyya
Biswajit Gain - During Wiki Loves Monuments 2016, Kalna, West Bengal India

Nava-Kailasha Temple
Nava-Kailasha Temple - During Wiki Loves Monuments 2016, Kalna, West Bengal India
Gopalji Temple
Gopalji Temple - During Wiki Loves Monuments 2016, Kalna, West Bengal India
Sidheswari Kalibari
Sidheswari Temple - During Wiki Loves Monuments 2016, Kalna, West Bengal India

We reached at his residence in time and he gladly welcomed us. I started the discussion with a introduction of WLM project to him and also discussed about the heritages of the district. We learned some historical facts about Kalna from him that was really new to us. Here would like to mention, everybody attended the meeting except Kalyan. When we came out from his house, discovered Kalyan was taking a nap outside his house. Although, we purchased some of his books from him and he suggested us to meet Biswajit Gain, a local photographer and historian. Achariyya Ji fixed a meeting in between Biswajit Gain and us at the guest house where we stayed. The meeting was fruitful in perspective of outreach. We went back to our guest house to meet Biswajit Gain. Meeting with Biswajit Gain was also came out very fruitful as he showed interest to contribute and interested in workshop at Kalna.

Two Ancient Temples (joined together)
Two ancient temples (joined together) - During Wiki Loves Monuments 2016, Baidyapur, West Bengal India
Panchratna Brick Temple
Panchratna brick temple - During Wiki Loves Monuments 2016, Baidyapur, West Bengal India

After the small break for refreshment we went to Baidyapur to photograph one state and one National protected monuments. Baidyapur which is situated 16 Km away from Kalna. Other than these two there were many ancient temples which were not in our list. Still, covered most of the temples for creating future articles and for documentation purpose. Around 3Pm we closed the chapter of Baidyapur and reached to nearby bus stand to go to Burdwan via Bainchi. There were no frequent bus service for Bainchi and we had to wait there. After waiting for half an hour discovered a overcrowded bus and there were absolutely no place inside the bus. Four of us except Sumit, climb up the roof of the bus and settled ourselves. Sumit forcefully boarded inside the bus and we went to Bainchi. Then we had plan to go to Burdwan from Bainchi and other two places. But it was completely impractical matter to cover all those places in two days. It was drizzling when we reached to Bainchi station and condition of sun light was too poor. So, we took the decision to postponed our Burdwan Plan and end the WLM tour. Boarded a local train from Baichi for Kolkata.

Unforgettable Frames
Indrajit and Sujay - During Wiki Loves Monuments 2016, Kalna, West Bengal India
Group Photo - During Wiki Loves Monuments 2016, Kalna, West Bengal India
WLM Team - During Wiki Loves Monuments 2016, Kalna, West Bengal India
Sumit and Sujay - During Wiki Loves Monuments 2016, Kalna, West Bengal India
Sujay and Santanu Da - During Wiki Loves Monuments 2016, Kalna, West Bengal India
Sujay - During Wiki Loves Monuments 2016, Kalna, West Bengal India

Contribution of Bengali Wikipedians from WB Community for WLM 2016
(Click on the Name to see the individual Contribution)

Indrajit Das
Sumit Surai
Sujay Chandra
Prithwish Jash
Santanu Chandra
Rangan Datta
Biswarup Ganguly
Amitava Sengupta
Arup Chowdhuri

Note – Please carry enough food otherwise it will be difficult for someone to locate a good place for eating. Also keep in mind there are only 3/4 hotels for accommodation.

Special Thanks
Wikipedia West Bengal Community for the trip.
Sumit, Santanu Da, Kalyan, Sujay and Prithwish for tolerate me.
Sidheswar Achariyya and Biswajit Gain.
Shibo Ramokrishna Lodge

Copyright © BongBlogger
you can share this post subjects to the conditions that please give due credit to Author Indrajit Das and do not alter before sharing. Request do not Plagiarize.

If you found your photographs here and have issues with that please E-mail me with your requests, I will remove your photographs from public domain.

Kashmir Diary: Tomb of the Mother of Akbar of Kashmir, Zain-Ul-Abidin

Tomb of the Mother of Zain-ul-Abidin in Mazar-I-Salateen in Srinagar, Jammu & Kashmir, India

Tomb of the Mother of Zain-ul-Abidin in Mazar-I-Salateen in Srinagar, Jammu & Kashmir, India

I faced so much of issues rather harassed during my Srinagar tour because I visited those places surrounded with so much of controversies. I didn’t face any such issues in this place, the way I harassed in Roza Bal or during the visit to Pathar Masjid and some other places in Kashmir. However, I went there twice. First time, I went there with a separate set of ideas about the place. My thought process and perspective about this place changed after the visit to the Temples of Awantipora. So, I went there one more time to clear some doubts. Soon after the second visit, I understood this place was also a controversial place. But fortunately, I didn’t face any resistance or harassed. Either locals had no idea about the controversy or I was fortunate enough.

I have visited a place called, Mazar-I-Salateen, a graveyard in Srinagar. The tomb of Empress Miran (Jonaraja’s Meradevi), the mother of Budshah Zain-Ul-Abidin is there, known to all as Budshah’s tomb, located in the fussy lanes of Shahr-e-Khaas near Old Zaina Kadal area of Srinagar. I have never seen such a magnificent tomb before and this monument looks more as a mosque instead of a tomb.

Mazar-I-Salateen Islamic Graveyard in Srinagar, Jammu & Kashmir, India Tomb of the Mother of Zain-Ul-Abidin in Mazar-I-Salateen, Srinagar, Jammu & Kashmir, India

Mazaar-I-Salateen
The mausoleum is a bulbous brick masonry structure decorated with blue tiles, built in 15th century (1465 AD) by Zain-Ul-Abidin. The structure is influenced by Persian architecture, which is quite similar to the architecture found in Central Asia. I am no one to comment about the architecture, still, I found it very unusual in South Asian architecture. The main tomb chamber is domed shaped and flanked by four auxiliary domed rooms. There are two entrances for the graveyard, one is little far from this grand tomb and is a normal iron gate. The other one is just next to the tomb and interestingly the architecture is quite similar to the tomb. The boundary wall is also made of stone, similar, I have witnessed in Awantipora temples.

Tomb of the Mother of Zain-Ul-Abidin in Mazar-I-Salateen, Srinagar, Jammu & Kashmir, India Tomb of the Mother of Zain-Ul-Abidin in Mazar-I-Salateen, Srinagar, Jammu & Kashmir, India Tomb of the Mother of Zain-Ul-Abidin in Mazar-I-Salateen, Srinagar, Jammu & Kashmir, India Tomb of the Mother of Zain-Ul-Abidin in Mazar-I-Salateen, Srinagar, Jammu & Kashmir, India

After my visit to Awantipora, couldn’t sleep that night and I spent the whole night with referring books and searching the net extensively. Next day early morning, I went to the cemetery for one more time. I noticed, (may be) the tomb was erected on the basement of an ancient Hindu temple. The layer of bricks and the basement made of stone has followed completely two different architectures. Even, the entrance attached to the tomb and the boundary wall were also a part (My interpretation, Not sure) of the ancient Hindu temple. Although, the temples architecture of Awantipora influenced by Gandhara School of art (The Gandhara School of art developed and patronized during the reign of Emperor Kanishka in the first century AD. This art was primarily Mahayana and influenced by Greco-Roman.) and same I have noticed on the basement of the tomb. The main gate of the tomb was closed during my visit. But on the second time, I peeped through the main door and saw an iron chain hangs in the central dome. What is the significance of the iron chain in an Islamic monument? Seriously, I have no idea. Similarities between the Awantipora temples and the basement of the tomb, boundary wall and the entrance of the cemetery, importantly the chain made me confused. Please don’t think that my intention is to provoke controversy.

Tomb of the Mother of Zain-Ul-Abidin in Mazar-I-Salateen, Srinagar, Jammu & Kashmir, India Mazar-I-Salateen Islamic Graveyard in Srinagar, Jammu & Kashmir, India Tomb of the Mother of Zain-Ul-Abidin in Mazar-I-Salateen, Srinagar, Jammu & Kashmir, India

Here I would like to mention some historical facts. Zain-Ul-Abidin or Ghiyas-ud-Din Zain-ul-Abidin (1418–1419 and 1420–1470) ruled Kashmir for fifty years and before him Sultan Sikandar Bhutshikan (1389 -1413 AD) was the ruler. Zain-Ul-Abidin, the eighth Sultan of Kashmir, was known for his liberal religious policy, promoted learning, interests in art, architecture and he promoted Sanskrit, Persian and Arabic languages in Kashmir. He withdraws all the orders issued by Sultan Sikandar Bhutshikan. He appointed Hindus to high posts and also abolished Jizya. He was the first man who forbade cow slaughter in Kashmir. People of Kashmir still remember him as Akbar of Kashmir. But during the reign of Sultan Sikandar Bhutshikan, stone temples of Hindu in Kashmir suffered destruction, some were modified and some converted into mosques. On the other hand, wooden temples suffered natural decay or were converted into tombs or mosques. It is understandable, what was the situation of Hindus during his rule.

The tomb adjoins a small graveyard, containing royal graves, including Sultan Zain-Ul-Abidin’s grave, and his wives and children. The grave of famous the Tartar invader Mirza Haidar Dughlat, the cousin of Babar is there. Many important persons were buried in this cemetery. But unfortunately, I couldn’t locate those graves as all tombstones were written, either in Persian or in Arabic languages.

Mazar-I-Salateen Islamic Graveyard in Srinagar, Jammu & Kashmir, India

I want to share something with you all. I read books or some articles on the same but suddenly I noticed that nobody mentioned the name of Zain-Ul-Abidin’s mother in their Articles/Books. I thought, I have skipped her name and go through one more time, but no, no nobody mentioned her name. Again I started searching for her name and was completely frustrated. I searched in Wikipedia and found a step ahead information. They referred this tomb as a tomb of Budshah Zain-Ul-Abidin and even they didn’t mention her name. I intimated the same to Wiki with proper references and they rectified it. Searching for over two months, finally, I learned the name from a book written by P. Pal. One more thing, during my visit to this place, I was also in search for a house called “Bamzai” or “Bamjai”, it is said that Rabindranath Tagore stayed in this house during his visit to Kashmir in 1915. I have tried so much to locate the house but couldn’t.

References

  1. “Jammu and Kashmir Guide” by M. Saraf
  2. “Arts of Kashmir” by P. Pal
  3. “Archeological Monuments” by A. Iqbal.
  4. “Temple Architecture of the Kashmir”
  5. “The Shrines and Temples in Kashmir” by K. L Butt
  6. “Hindu-Buddhist Sculpture of Ancient Kashmir”

 

Copyright © BongBlogger you can share this post subject to the conditions that please give due credit to the Author Indrajit Das and do not alter before sharing. Request do not Plagiarize.

If you found your photographs here and have issues with that please E-mail me with your requests, I will remove your photographs from the public domain.

Kashmir Diary: Story of A Desecrate Mosque – Pathar Masjid

Pathar Masjid in Srinagar, Jammu & Kashmir, India

Pathar Masjid in Srinagar - Jammu & Kashmir, India

After so much of drama at Roza Bal, I was tensed but not scared. Also, I got an overall idea about the place and thereafter planned my trip accordingly. That day I reached the bank of Jhelum and standing on a small bridge on the River. On my left was Khanqah Shahi Hamadan and on the right was Pathar Masjid. I deeply felt as if I am Robert Kincaid but It was an another mistake. Robert went there in a beautiful place called Madison and I was standing in a beautiful but controversial place called Srinagar. A beautiful lady didn’t come out but a group of locals gathered behind me. Before I could understand anything they snatched my camera. My dream to be like Robert was shattered and I came into the reality. This was for the second time I got into trouble. Although, It was a separate episode.

Pathar Masjid in Srinagar, Jammu & Kashmir, India Pathar Masjid in Srinagar, Jammu & Kashmir, India//embedr.flickr.com/assets/client-code.js

Somehow I managed the situation and reached Pathar Masjid. But I couldn’t find the entrance of the mosque. The outer wall of the mosque was surrounded by shops and was closed during that time. The entire locality was also completely empty. I started loosing my confidence and felt lonely. The Old Zaina Kadal police station was just opposite side of the mosque and I went there to know the location of the entrance of the mosque. Basically, I was in search for some mental support. I found an Indian Military outpost in front of the police station. A tall and handsome Military came out from the bunker. We exchanged smiles and after that, I started gaining confidence. I asked him about the entrance and also the reason for the curfew-like situation. Then I learned from him that the situation of the valley is not well and he suggested me not to roam in the remote areas.

The mosque was not very impressive from the outside. But I was eager to see the mosque as because It was built by Mughal Empress Nur Jahan. Few months before the trip, I don’t know what happened to me I was so obsessed about Nur Jahan. By the way, this was not the only reason for the visit.

Pathar Masjid in Srinagar, Jammu & Kashmir, India//embedr.flickr.com/assets/client-code.js

Pathar Masjid – This mosque is locally known as Naev Masjid and built by Mughal Empress Nur Jahan the wife of Emperor Jahangir, in 1623 AD, constructed under the supervision of Mughal historian and architect Malik Hyder Chaudhary. Generally, mosques in the valley were built with wood while this mosque built with stone, as most of the Mughal edifices were built with Marble. Pathar masjid was built with locally available grey limestone and the style is practically the same as edifices found in Delhi and Agra. The grey limestone was generally used in Kashmir for face work and this stone is an excellent material for carving and for moldings. Also, high grade of polish is possible on this stone and same testified in the pavilion of Shalimar Bagh. The facade of Pathar Masjid, “The Stone Mosque” consists of nine arches including a large arched portico in the middle. The arched openings are enclosed in shallow decorative, cusped arches and horizontal construction of these arches is outstanding. If this mosque compared with the other Mughal architectures in India, certainly it is not as grand like other but it is really unique in Kashmir. The plinth of the mosque is very impressive, as lotus leaf coping on it and looks excellent. Also, this mosque does not have the traditional pyramidal roof that visually separates this mosque from other mosques in the valley.

Pathar Masjid in Srinagar, Jammu & Kashmir, India Pathar Masjid in Srinagar, Jammu & Kashmir, India Pathar Masjid in Srinagar, Jammu & Kashmir, India//embedr.flickr.com/assets/client-code.js

The mosque is unique in many sense, especially for the atmosphere. Although, why this beautiful mosque never used as a place of prayer, there is a very interesting story. Once a Mullah questioned to Empress Nur Jahan regarding the costs of its construction and instead of a proper answer, she pointed to her bejeweled shoe and replied: “As much as that”. The mockery was reported to Mullahs and this remark reached to all highly respected religious leaders of Kashmir. They unanimously decreed by the sacrilegious pointing this mosque was unfit for any religious use. Henceforth, the mosque has never been used. It is a fact, comparison a religious place with a shoe was really unacceptable. I am really astonished, how a woman of seventeen century from Islamic clan passed such comment publicly.

There are other interesting stories behind this Masjid. (It is said), this was actually a site of an ancient Buddha Vihara. During the rule of Fateh Khan (1510-1517), a Sunni mosque was erected on (demolishing) the place of Buddha Vihara. It is said Shia Empress of India Nur Jahan rebuilt it as a Shia mosque. In around 1819, Akali Baba Phula Singh defeated Jabbar Khan and Ranjit Singh captured Kashmir. Phula Singh was the military general of Maharaja Ranjit Singh. During this time Pathar Masjid was taken over by Maharaja Ranjit Singh and used as a storehouse. The military of Maharaja installed a cannon on the roof of Pathar Masjid to blown up Khanaq Shahi Hamadan which is situated across the Jhilam. Pandit Birbal Dhar intervened into the matter and saved the shrine.

Entry – Free
Location – Zaina Kadal

How to reach
Mosque is situated 9Km away from Srinagar. There are several ways to reach the place.

By Road
Pathar Masjid is very well connected to Srinagar main town. You will get Rental Car/Bus from Srinagar. If you opt for rental car, in that case, you have to hire the car for a day trip and will cost you 1500 – 2000 (NonAC) approx. Bus will cost you only Rs 10 for one side or opt for shared car which is available from Dal Gate, cost you Rs 30.

By Air

The nearest airport is Srinagar International airport known as Sheikh Ul Alam International Airport. It is located at Aerodrome Road, Srinagar, approx 12Km from the city, Srinagar.

By Train
Nearest railway station is Srinagar.

 

Reference

  1. “Archeological Monuments” by A. Iqbal.
  2. “Jammu and Kashmir Guide” by M. Saraf
  3. “The Shrines and Temples in Kashmir” by K. L Butt

Copyright © BongBlogger you can share this post subject to the conditions that please give due credit to the Author Indrajit Das and do not alter before sharing. Request do not Plagiarize.

If you found your photographs here and have issues with that please E-mail me with your requests, I will remove your photographs from the public domain.

Your Next Weekend at Lonely Vanishing Beach Chandipur

Chandipur Beach in Balasore, Orrisa, India

It was 3:30 AM, my phone rang. It was a wake-up call for me from Debabrata. Working late night is okay with me but leaving the bed on early morning always a tough job. Never use an alarm, my wife work as an alarm for me. After so much of procrastination, finally, I managed to wake up at 4:30 AM. My breakfast was ready and served. My wife supports all kinds of wild madness of me. Unless she was there with me, instantaneous travel was impossible for me. Although, I had to catch up Dhauli Express from Howrah for Balasore.

I reached Howrah at 5:25 AM and managed to buy a local ticket after standing in a long queue. Almost I missed the train but got on in a running train. Debabrata was kept on checking my status. Around 6:40 AM I got a call from him and asked me to check my laptop. Switched on my laptop and internet as well to check mails. I called up and informed him about the status of my camera. He smiled and told me that he arranged everything for the trip. At 9:45 AM, I reached Balasore and found ever smiling Debu at the station. We sat at the station and finalized the plan of action for the work. We hired an auto from the station compound and reached DRDO (Defence Research and Development Organisation) by 10:30 AM. It was a semi-official tour for me and I finished my job as quickly as possible. I was so eager to see the magical beach.

On the way to Chandipur Sea Beach, Balasore, Odisha India BongBlogger Traveling in Lorry during Chandipur Tour, Balasore, Odisha India

His arrangement of everything was a completely false statement. After walking for a half an hour under the scorching sun, there were no traces of any vehicle. He stopped a lorry and asked for a lift. This was the first time I traveled in a lorry to reach a travel destination. The temperature inside the driver’s cabin was reached to the boiling point. It was pathetic but now I feel it was an experience. The driver dropped us at an unknown place and there was no trace of any sea beach. Crossing some narrow lanes and by lanes, we reached the beach but there were no traces of any sea. I asked a passer-by fisherman about the location of the sea and he said “Vanished”. He suggested us to wait for few more hours.

Chandipur Sea Beach, Balasore, Odisha India Chandipur Sea Beach, Balasore, Odisha India Casuarina jungle alongside Chandipur Sea Beach, Balasore, Odisha India

We started walking on the beach to locate the sea but there was no trace of a single drop of water. I was completely frustrated. Suddenly I noticed red spots on the beach. Oh my God, there were thousands of thousands of red crabs. Earlier, I saw red crabs on Talsari beach but not in huge number. Few minutes of walking we reached the colonies of red crabs. I could wait for the sea to come back but could not resist myself to play with the red crabs. Crabs were smart and faster than us, they were also not camera friendly. So neither I grabbed a single one in my hand nor I captured them in my cam. Debu went there many times and he was quite acquainted with the place. He informed me that Chandipur is also popular for “Horse-Shoe” crabs. Please don’t think that he knows everything about the place. I had some knowledge of historical facts about the place and I showered the same on Debu.

Now it’s the time to shower the same on all of you. Popular Indian freedom fighter Jatin Chandra Mukherjee (Also known as Bagha Jatin) was shot twice by the British Army in Chandipur and he managed to escape from the spot. He swam across the river (Budhabalanga River) and reached to Barabati Village. Where a doctor operated on Bagha Jatin to take out the bullets from his body. There was a place called Chashakhanda village where freedom fighters used as a hideout and to store ammunition. After a while, he managed to reach that village but unable to find the door key of the house. Unfortunately, due to excessive bleeding, he fell unconscious and British Army arrested him from the spot. An episode of thoughts about the freedom fighters engrossed me for some moments.

Chandipur Sea Beach, Balasore, Odisha India Chandipur Sea Beach, Balasore, Odisha India Casuarina jungle alongside Chandipur Sea Beach, Balasore, Odisha India Casuarina jungle alongside Chandipur Sea Beach, Balasore, Odisha India

Let’s get back again to our trip. There were only two living souls on the beach and we felt so lonely. It was 3 PM and we were also hungry. Accordingly, we started searching for a good place for lunch. We had our lunch and went back again to the beach. Suddenly, I noticed waves which were far away from us. As time grows, I saw a full-fledged sea near me. I witnessed the moment, how a completely dried out beach transformed into a sea. Basically, everyday during ebb tide the sea water recedes approx 5 KM from the beach and advances to the shore during high tide. It is truly unique and fascinating sight. If you would be there during and after the tides, you can watch the sea vanishes right in front of your eyes and its return. We enjoyed thoroughly and played with the water. I wished to swim but couldn’t as there were no extra clothes with me. There was a Casuarina jungle alongside of the beach and we stroll there for sometime. Then we went to a nearby village called Balaramgadi and spent some time there. It was 8PM, there was no plan to stay there. I bid goodbye to Chandipur and boarded an overcrowded Howrah-bound train. I reached home around 4AM.

Casuarina jungle alongside Chandipur Sea Beach, Balasore, Odisha India Casuarina jungle alongside Chandipur Sea Beach, Balasore, Odisha India Sonarpur Chowk in Balasore, Odisha India Balasore Station at Night in Balasore, Odisha India

Activities in Chandipur

A) Balaramgadi Village
If you like fishing, must visit Balaramgadi Village. It is located near to the beach merely 2 KM, at the confluence of Budhabalanga River. There is a big fish market in the village and fresh sea fishes are available at cheap price. This place is popular among locals and tourists, especially for fishing and boating. Apart from enjoying fishing and boating, one can enjoy the scenic beauty of the village.

Balaramgadi Village in Chandipur Sea Beach, Balasore, Odisha India Balaramgadi Village in Chandipur Sea Beach, Balasore, Odisha India Balaramgadi Village in Chandipur Sea Beach, Balasore, Odisha India

B) Sonarpur Chowk
Sonarpur Chowk is a marketplace and situated at a distance of 1 KM from Chandipur Beach. If you want to buy local handicrafts or ornaments made of seashells at a cheap price this is the best place.

C) Beach Festival
Beach festival is organized in almost every beaches in Odisha and Chandipur sea beach is not the exception. The festival which showcases the heritages of the area held in an open area.There is no fixed time for this festival.


Places Near to Chandipur

A) Panchalingeswar

Panchalingeshwar temple enshrined five Shiva Lingas and it is situated on the top of a hillock near Nilagiri Hill. It is believed that Shiva Lingas have been enshrined by Sita (Wife of Lord Rama) during their banishment. A stream regularly washes Shiva Lingas as it flows over them. A lake is formed by Devkund waterfall, which is also a major attraction of the place. You can explore the Nilagiri (Not Nilgiri)
Forest on foot.
This place is 30 KM away from Chandipur beach. Autos and private cars are available from Balasore station/Chandipur beach. Cost you Rs/- 150 to 200 for Auto and 500-600 for the car. There are not many options for accommodation. So if you have the plan to stay there booked the hotel in advance.

B) Kuldiha Wildlife Sanctuary

Kuldiha forest is situated in the district of Balasore in the state of Odisha and around 80 KM from the Balasore station. The forests of the region cover the Nato hills and the Sukhupata hills linked with the Similipal National Park. This is one of the major wildlife sanctuaries in Odisha. This forest is the home of wild animals like the elephant, tiger, and bison and also houses of birds. Prior permission is required for the visit.

Hotels in Chandipur
Chandipur is surrounded by Hotels and accommodations are easily available except any special occasions. All kinds of Hotels are available in Chandipur, from Cheap Hotels to Luxury hotels. If you are visiting in normal weekdays, must bargain for the rates.

How to reach

Location
Chandipur is a seaside beach situated on the northern coast of Odisha (Orissa) along the Bay of Bengal. Balasore is the nearest city and also an important city, having historical significance. The place was a part of Kalinga (An early kingdom in central-east India, comprised of maximum part of Odisha, some parts of Andhra Pradesh and Chattisgarh) and was invaded by the Mughals. In British-India it was developed as a port city. Balasore is situated 255 KM from Kolkata and 207 KM away from state capital Bhubaneswar.

By Road
Chandipur is well connected to Kolkata and there is several options are available like Luxury Bus/ Budget Bus/ Car rental service. It takes around 5-6 hours by bus and 4-5 hours by Car to reach Balasore from Kolkata.

By Airport
The nearest airport is Biju Patnaik International Airport located in Bhubaneswar (Capital of Odisha) is about 207 km away from Balasore (also known as Baleshwar).

By Train
The train is the best option for Chandipur and well connected to all major cities of India. Balasore is the nearest railway station, which is just 16 KM away from the Chandipur beach. If you are traveling from Kolkata, try for early morning trains, preferably, “Dhauli Express”.

View the Full Album of Chandipur Tour

IMG_0404

Special Thanks to Debabrata Sen for the trip.


Copyright © BongBlogger

you can share this post subjects to the conditions that please give due credit to Author Indrajit Das and do not alter before sharing. Request do not Plagiarize.

If you found your photographs here and have issues with that please E-mail me with your requests, I will remove your photographs from public domain.